পুরুষেরা রোবট নয়, নারী ছোট পোশাক পরলে প্রভাব পড়বেই: ইমরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- নারীদের পোশাক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আবারও আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেছেন, ছোট পোশাক পরার কারণেই নাকি পাকিস্তানে ধর্ষণ বাড়ছে। তার এমন মন্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।

 

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এইচবিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি একজন নারী স্বল্পবসনা বা ছোট পোশাক পরিধান ঘুরে বেড়ান, তাহলে সেটির প্রভাব একজন পুরুষের ওপর পড়তে বাধ্য যদি তিনি রোবট না হন।

 

টেলিভিশন চ্যানেলটিতে সরাসরি সম্প্রচার হওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইমরান খানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- পাকিস্তানে বাড়তে থাকা ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্তার ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে তার সরকার এখন পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে। জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এ সময় তিনি এটাও বলেন যে, কামনা বা বাসনা সংবরণ করার জন্যই পর্দা প্রথা চালু হয়। কিন্তু এই সংবরণের জন্য ইচ্ছাশক্তি সবার নেই।

 

ইংল্যান্ডে এক সময় প্লেবয়ের জীবন-যাপন করা ইমরান বলছেন, ‘এটি সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ। আমাদের সংস্কৃতিতে যা গ্রহণযোগ্য, সব জায়গায় তা মেনে নিতে হবে।’

 

এর আগে গত এপ্রিলেও এমন মন্তব্য করেন ইমরান খান। তখন ইমরানের মন্তব্য ছিল, ‘পুরুষদের সংযত রাখতে নারীদের উচিত খোলামেলা পোশাক না পরা।’

 

নারীদের শরীর ঢেকে চলার উপদেশ দিয়ে তিনি এ কথাও মনে করিয়ে দেন যে, ‘পর্দা ব্যাপারটির মূল কথাই হলো প্রলোভন এড়ানো আর তা এড়ানোর মতো ইচ্ছাশক্তি সবার থাকে না।’

 

ইমরানের এই মন্তব্যকে ‘তথ্যগতভাবে ভুল, অসংবেদনশীল এবং বিপজ্জনক’ আখ্যায়িত করে তখন পাকিস্তানে শুরু হয় অনলাইনে স্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযান। স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানের আয়োজকেরা মনে করেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ধর্ষক এবং ধর্ষকবান্ধব ব্যবস্থাকে শক্তি জোগাবে।

 

পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনও প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে দেয়া বিবৃতিতে তখন বলে, এর ফলে ধর্ষক, নিপীড়কদের রেহাই দিয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষণ, নিপীড়নের শিকার সব নারীর ঘাড়ে দোষ চাপানো হলো।’

 

পাকিস্তানে ধর্ষণ, নিপীড়ন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজের আত্মীয়দের দ্বারাই ধর্ষণের শিকার হন দেশটির নারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *