আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সরাতে পুলিশের টিয়ার শেল-জলকামান, নিহত ১

নজর২৪, আশুলিয়া: ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) এর কয়েকটি বন্ধ কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেছে।

 

এসময় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিসিবির আম্পায়ার বহন করা দুটি হাইচ মাইক্রোবাস গাড়ীতেও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর করে। পরে পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ ঘটনায় জেসমিন বেগম (৪২) নামের এক নারী শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

 

রোববার সকালে আশুলিয়ার পুরাতন ইপিজেডের সামনে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে এ বিক্ষোভ শুরু করে লিনি ফ্যাশন ও লিনি এ্যাপারেলস লিমিটেডের প্রায় ৪ শতাধিক শ্রমিক। পরে এসব শ্রমিকদের সাথে বন্ধ হয়ে যাওয়া এ ওয়ান বিডি লিমিটেড, শাইন ফ্যাশন এবং এভান্ট গার্ড কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

 

নিহত জেসমিন বেগম খুলনার ডুমুরিয়া থানাধীন খাজুরিয়া গ্রামের মাহাবুবের স্ত্রী। তিনি আশুলিয়ার বলিভদ্র মধুপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ডিইপিজেডের গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের জুনিয়র সুয়িং অপারেটর ছিলেন।

 

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৭ হাজার শ্রমিকের ১ মাসের বেতন, শ্রমিক ছাঁটাই, টার্মিনেশন বেনিফিট না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর বেতন পরিশোধের জন্য কয়েকদফা তারিখ দিলেও বেতনের মাত্র ৪২ শতাংশ পরিশোধ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের পুরো বেতন পরিশোধ করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। এসব দাবিতে ইপিজেড পুরাতন জোনের প্রধান ফটকের সামনে সকালে থেকে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে।

 

একপর্যায়ে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে নেমে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। এসময় ওই মহাসড়কে প্রায় দেড় ঘন্টা ব্যাপী শ্রমিকরা অবস্থান করর ফলে প্রায় ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) তে খেলায় যোগদান করার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র আম্পায়ারদর বহন করা দুটি হাইচ মাইক্রোবাসে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর করে বিক্ষোব্দ শ্রমিকরা।

 

পরে পুলিশ এসে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের উপর কাদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এসময় ছুটাছুটি করতে গিয়ে ডিইপিজেডের গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের জুনিয়র সুয়িং অপারেটর জেসমিন বেগম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে পলাশবাড়িস্থ হাবীব ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

 

শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো: আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে চলে যেতে বলি। শ্রমিকরা না বুঝতে চাইলে পানি দিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

শ্রমিকদের পাওনাদির ব্যাপারে পুলিশ সুপার বলেন, আসলে যে কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন করছে ওই কারখানাটি ভারতীয় মালিকানাধীন। করোনার কারণে অনেক দিন আগে থেকেই মালিক কারখানায় আসেন না। এখন শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কারখানা বিক্রি করে দিয়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করার। এই সময়টুকু তো শ্রমিকদের দিতে হবে।

 

এদিকে, এক নারী শ্রমিক নিহতের ব্যাপারে পুলিশ সুপার বলেন, আন্দোলনের সময় আমরা যখন শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছিলাম। ওই শ্রমিক তখন দৌড়ে পালাতে গিয়ে খেয়াল না করে বৈদ্যুতিক খুটির সাথে লেগে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে সে মারা গেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *