নজর২৪ ডেস্ক- এক মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আবারও সোচ্চার হবে বিএনপি। একইসঙ্গে এ দাবিতে দলীয়ভাবে কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা-ভাবনাও অনেকটা এগিয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তার উন্নত চিকিৎসার বিষয়টিকে উল্লেখ করে দাবি আদায়ে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি। দলের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব আভাস মিলেছে।
খালেদা জিয়ার পরিবার, চিকিৎসক ও দলের নেতারা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও হার্ট ও কিডনিতে তার বিদ্যমান সমস্যার সুচিকিৎসা দেশের বাইরেই সম্ভব। সেক্ষেত্রে তাকে বিদেশে উন্নত হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
গত দুইদিনে বিএনপির একাধিক উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বেগম জিয়ার শারীরিক উন্নতি ঘটলেও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা বেশি দরকার। সেক্ষেত্রে গত মে মাসের শুরুতে তাকে বিদেশে নিতে সরকারের সঙ্গে তার পরিবারের যে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিলো, মাঝখানে তা স্থগিত থাকলেও আবার শুরু হয়েছে। যদিও পরিবার বা চিকিৎসকদের কেউই এ সংক্রান্ত বিষয়ে স্বনামে উদ্ধৃত হতে নারাজ।
চিকিৎসকদের একজন বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। সবকিছু নির্ভর করবে সার্বিক পরিস্থিতির উপর। তবে, ম্যাডামের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন।’
বুধবার (৯ জুন) আলাপকালে একাধিক নির্ভরশীল সূত্র জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে আইনের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে বিদেশ যেতে বাধা দিলেও আবারও আইনের প্রেক্ষিতেই তাকে সে অনুমতি দেবেন। এক্ষেত্রে তৃতীয় একটি পক্ষের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আবারও ক্রিয়াশীল বলে জানায় সূত্রটি।
এদিকে বিএনপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে রাজনৈতিক চাপ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। সেক্ষেত্রে খুব সহসাই বেগম জিয়ার স্থায়ী মুক্তির দাবিতে কর্মসূচির দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্যদের বক্তব্যেও খানিকটা আভাস মিলেছে। এদিন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতা নেতাকর্মীদেরকে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হতাশার সঙ্গে এও বলেছেন, স্লোগানে বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি অনুপস্থিত।
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ প্রথম সারির কোনও কোনও নেতাও নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘দলের নেতা তারেক রহমান, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশের মাটিতে, তেমনি অবস্থায় আমরা ভার্চুয়ালি এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে কথা বলে যাচ্ছি ৷ আমার মনে হয় কথায় কাজ হবে না। জিয়ার কথায় চলতে হবে, কথা কম কাজ বেশি ৷
‘এখন মনে হচ্ছে কথা বলার থেকে বেশি জরুরি সরকারের পতন কীভাবে করাব ৷ সেই পতনের ডাক দেন, সেই আন্দোলনের ডাক দেন। আমরা যদি অতীতের কোনো ইতিহাসে থাকি, আগামী ইতিহাসেও আমরা থাকব৷ আর একটি ইতিহাস সৃষ্টি করব।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, আন্দোলনের ডাক এলে আমি নব্বইয়ের চেতনায় ঘোষণা দিতে চাই, শেখ হাসিনার পতন ছাড়া ঘরে ফিরবো না। এভাবে সকলের প্রস্তুতি নিন।
আমান বলেন, “আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের একটি স্লোগান হচ্ছে, ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ। যদি তুমি রুখে দাঁড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ।’ এই হাসিনা সরকারকে হটিয়ে সেই শহীদ জিয়ার বাংলাদেশ, আধুনিক বাংলাদেশ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ, তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ঢাকা মহানগরের থানা ও ওয়ার্ড নেতাদের বলবো, সারা বাংলাদেশের মানুষ ঢাকার দিকে তাকিয়ে আছে। প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড সংগঠনের শক্তি বাড়ান। আগামীতে এই শক্তি নিয়ে আমাদের মাঠে নামতে হবে। আমরা দেখতে চাই, ওদের কত শক্তি আছে, আমাদের জনতার শক্তিকে মোকাবিলা করার।
