নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন ফরম তুলতে গিয়ে খালি হাতেই ফিরলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। একইসঙ্গে নৌকার মনোনয়ন ফরম তুলতে পারেননি মিরপুরের মোল্লা পরিবারের সন্তান এখলাস উদ্দিন মোল্লা।
আওয়ামী লীগ অথবা দলের কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে থাকার বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়নি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে জানা যায়, ঢাকা-১৪ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে এখলাস উদ্দিন মোল্লা তার সহকর্মীদের নিয়ে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে আসেন।
এসময় মনোনয়ন বিতরণ কমিটির সদস্যরা এখলাসউদ্দিন মোল্লার আওয়ামী লীগ বা অন্য সহযোগী সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করেছেন কী না জানতে চান। এখলাসউদ্দিন মোল্লার কাছে এই সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চান সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, মনোনয়নপত্র বিতরণকারীদের কোনো কাগজপত্র দেখতে পারেননি এখলাসউদ্দিন মোল্লা। তাই দলের নিয়মানুযায়ী তার কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়নি। মনোনয়নপত্র না পেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান তিনি।
আরও জানা যায়, এখলাস উদ্দিন মোল্লা যখন দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনতে না পেরে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তখন বাইরেই অপেক্ষা করছিলেন মনোনয়ন প্রত্যাশী চলচ্চিত্র অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। এখলাস উদ্দিন মোল্লার ফর্ম কিনতে না পারার কারণ জানতে পেরে ডিপজলও চলে যান।
এসময় ডিপজলের সঙ্গে ছিলেন জায়েদ খান, মিশা সওদাগর, রুবেল, রোজিনা, অঞ্জনা, দিলারা, নৃত্যশিল্পী মাসুম বাবুলসহ একঝাঁক চলচ্চিত্র শিল্পী। তাদের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক হিসেবে পরিচিত। কেউ কেউ দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের কিছু অঙ্গ সংগঠনে।
ঘটনাটি আওয়ামী লীগে বেশ চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে। হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি করেছে এফডিসি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপ দফতর সম্পাদক সায়েম খান বলেন, আমরা প্রথমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করি যে যিনি দলীয় মনোনয়ন নেবেন তিনি আমাদের কোনো সংগঠনে রয়েছেন কি না। সেটি নিশ্চিত হয়ে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই দুজনের বিষয়ে বিরূপ মনোভাব থাকায় আপাতত তাদের মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও এখলাস উদ্দিন মোল্লাহ দুজনই আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক নেতা এখলাস উদ্দিন মোল্লাহ ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
পরে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদারের কাছে পরাজিত হন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি নৌকার মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। তাঁর ভাই ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০০৮ সাল থেকে টানা তিনবার ঢাকা-১৬ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের প্রয়াত বাবা হারুন মোল্লাহ এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা-১১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে মনোয়ার হোসেন ডিপজল বিএনপির সমর্থনে ১৯৯৪ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। বিএনপির এই নেতা ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে নৌকার প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরমও কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু মনোনয়ন পাননি। ডিপজল বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
