নজর২৪, রাজশাহী- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফ্যান খুলে পড়ে এক রোগী আহত হয়েছেন। হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
আহত সন্তোষ দাসের এক হাতের কিছুটা অংশ কেটে গেছে। আঘাত পেয়েছেন তার বোন নিমমনি দাসও। তিনি সন্তোষের বেডের পাশে শুয়ে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালেই তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সন্তোষের স্বজনেরা জানান, ‘এসি থাকলেও এই ওয়ার্ডে চলে না। তাই বৈদ্যুতিক ফ্যান চালাতে হয়। কিছু ফ্যান চলে, কিছু চলে না। সোমবার ভোরে চলতে চলতে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান হঠাৎ খুলে পড়ে। পরে দুপুর ১২টার দিকে সেখানে আরেকটি ফ্যান লাগানো হয়।’
সন্তোষ দাসের ছেলে কাঞ্চন কুমার জানান, ‘ফ্যানটা কয়েক দিন ধরেই নড়বড় করছিল। এটা আমরা ওয়ার্ডের চিকিৎসক মামুন স্যার ও নার্সদের বলেছিলাম। কিন্তু তারা এটা ঠিক করেননি। ভোররাতে হঠাৎ করেই পড়ে যায়। তবে, ভাগ্য ভালো বেশি কিছু হয়নি।’
ওই ওয়ার্ডে গেলে রোগীরা আরও অনেক অভিযোগ করেন। এক রোগীর স্বজন জামশেদ অভিযোগে বলেন, তার বাবাকে নিয়ে তিনদিন ধরে হাসপাতালে আছেন। হাসপাতালে মানুষ যখন বাঁচার জন্য আসেন, তখন তাদের গায়ের ওপর ফ্যান খুলে পড়েছে।
তিনি আরও জানান, ওই ওয়ার্ডের ৮-৯টি ফ্যান নষ্ট, লাইট জ্বলে না। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় রাতের বেলা অনেকটা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। টয়লেটগুলো নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে। তীব্র দুর্গন্ধে ভেতরে প্রবেশ করা যায় না। টয়লেটের দরজায় ছিটকিনিও নেই। এসব বিষয়ে অভিযোগ করলেও কারও ভ্রুক্ষেপ নেই। উপরন্তু জীবন বাঁচতে গিয়ে সেখানে মাথার ওপর থেকে ফ্যান ভেঙে পড়ায় নতুন করে জীবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে করোনা রোগীদের মধ্যে।
অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, একদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, তার ওপর হাসপাতালের ফ্যান খুলে পড়ছে। রোগীরা অল্পের জন্য বড় অঘটনের হাত থেকে বেঁচে গেছেন। এ ঘটনায় পুরো ওয়ার্ডের অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক দিন থেকে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করছেন রোগীর স্বজনদের।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। সাংবাদিকদের কাছেই প্রথম জেনেছি ফ্যান খুলে রোগীর বেডে পড়ার কথা। দ্রুত ওই ওয়ার্ডের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে বলেও জানান তিনি।
