ঢাকা    ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বজ্রপাতে কী করবেন, ২০টি নির্দেশনা দিলো ফায়ার সার্ভিস

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২১

বজ্রপাতে কী করবেন, ২০টি নির্দেশনা দিলো ফায়ার সার্ভিস

নজর২৪ ডেস্ক- বজ্রপাতের মৌসুমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। শুধু রোববারই দেশের ১৮টি জেলায় ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর গত তিন দিনে ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে গত ১০ বছরে বজ্রপাতে মারা গেছে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ২৩৯ জনের। ২০১৯ সালে মৃত্যু হয় ২৩১ জনের। আর ২০১৮ সালে মৃত্যু হয় ২৭৭ জনের। চলতি বছরের হিসাব চলমান।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টির সময়ে সবচেয়ে ভীতিকর বিষয় হচ্ছে বজ্রপাত। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আমাদের দেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে প্রায় দেড়শোর মতো মানুষ মারা যান। এর বেশিরভাগ ঘটে হাওর অঞ্চলে। বজ্রপাতে প্রচুর গবাদি পশু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। বজ্রপাত এতটাই আকস্মিক ঘটনা যে এক্ষেত্রে করণীয় কিছু থাকে না। তবে বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক হতে হবে।

 

বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

 

১. বজ্রপাতের ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না।

 

২. প্রতিটি বিল্ডিংয়ে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন নিশ্চিত করুন।

 

৩. খোলাস্থানে অনেকে একত্রে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে দূরে সরে যান।

 

৪. কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান।

 

৫. খোলা জায়গায় কোনো বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেয়া যাবে না। গাছ থেকে চার মিটার দূরে থাকতে হবে।

 

৬. ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকতে হবে। বৈদ্যুতিক তারের নিচ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে।

 

৭. ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগগুলো লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।

 

৮. বজ্রপাতে আহতদের বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মতো করেই চিকিৎসা দিতে হবে।

 

৯. এপ্রিল-জুন মাসে বজ্রপাত বেশি হয়। এই সময়ে আকাশে মেঘ দেখা গেলে ঘরে অবস্থান করুন।

 

১০. যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।

 

১১. বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি বা বারান্দায় থাকবেন না এবং ঘরের ভেতরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকুন।

 

১২. ঘন-কালো মেঘ দেখা গেলে অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে বের হতে পারেন।

 

১৩. উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার, ধাতব খুঁটি ও মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।

 

১৪. বজ্রপাতের সময় জরুরি প্রয়োজনে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করুন।

 

১৫. বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, মাঠ বা উঁচু স্থানে থাকবেন না।

 

১৬. কালো মেঘ দেখা দিলে নদী, পুকুর, ডোবা, জলাশয় থেকে দূরে থাকুন।

 

১৭. বজ্রপাতের সময় শিশুদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখুন এবং নিজেরাও বিরত থাকুন।

 

১৮. বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকলে পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়ুন।

 

১৯. বজ্রপাতের সময় গাড়ির মধ্যে অবস্থান করলে, গাড়ির থাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না। সম্ভব হলে গাড়িটিকে নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।

 

২০. বজ্রপাতের সময় মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান করুন।