অভিযোগ ছাড়া হেফাজতের কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না

নজর২৪, ঢাকা- ভবিষ্যতেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া হেফাজতে ইসলামের কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

 

বুধবার (২ জুন) সচিবালয়ে কমিটির ষষ্ঠ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী।

 

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত (ভার্চুয়ালি ও সশরীরে) ছিলেন।

 

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। হেফাজতে ইসলাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খুবই নগণ্য সংখ্যক, কয়েকজন হাতেগোনা… গোয়েন্দা সংস্থা চিহ্নিত করেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, ভবিষ্যতেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, প্রমাণ হলে ব্যবস্থা আমরা ব্যবস্থা নেবো।

 

তিনি বলেন, কোনো ভুল মেসেজ যদি জাতির সামনে গিয়ে থাকে- বোধহয় আলেম-ওলামাদের গ্রেপ্তার হয়রানি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। কোনো অবস্থায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হবে না, সে রকম সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অপরাধের বিচার হবে, অপরাধী হিসেবে। কোনো দলীয় বা সম্প্রদায়ের পরিচয়ে আইনের অপব্যবহার না হয়, সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে।

 

বিট পুলিশিং করতে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে একটি করে রুম দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, যাতে তারা সেখানে বসতে পারে, টহল বাড়াতে পারে।

 

আরও পড়ুন-

‘কঠিন সিদ্ধান’ নিচ্ছে হেফাজত, দুই একদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

 

নজর২৪ ডেস্ক- এবার রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাদের বাদ দিয়ে খুব শিগগিরিই নতুন কমিটি ঘোষণা করছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আগামী দুই একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

নতুন কমিটিতে রাজনৈতিক পদে রয়েছেন এমন নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত করা হয়েছে সদ্য বিলুপ্ত কমিটি থেকে বাদ পড়া আল্লামা শফীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতাকে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হেফাজতের শীর্ষ এক নেতা সোমবার বিকালে বলেন, বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরাসরি রাজনৈতিক দলের পদে আছেন এমন কাউকে খসড়া কমিটিতে রাখা হয়নি।

 

সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পদে রয়েছেন এমন নেতাদের বাদ দিয়ে খসড়া কমিটি ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক জুনায়েদ বাবুনগরী। দুই একদিনের মধ্যে এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।

 

বাবুনগরীর তৈরি করা খসড়া কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে হেফাজত সংশ্লিষ্টরা মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। তবে ওই কমিটি ৩০-৩৮ সদস্যবিশিষ্ট হতে পারে বলে জানা গেছে। খসড়া কমিটিতে জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব হিসেবে রাখা হয়।

 

কমিটিতে মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, মাওলানা মুহিব্বুল হক (সিলেট), মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব (বরিশাল) কয়েকজনকে নায়েবে আমির হিসেবে রাখা হয়েছে।

 

যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন- মাওলানা সাজিদুর রহমান (বি-বাড়িয়া), মাওলানা আবদুল আউয়াল (নারায়নগঞ্জ) ও মাওলানা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা)।

 

কমিটি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, নাছির উদ্দিন মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, হাসান জামিল, মুফতি হারুন ইজহারসহ নানা ইস্যুতে বিতর্কে জড়িয়ে পড়া হেফাজতের নেতারা।

 

একইভাবে আল্লামা আহমদ শফীর হ/ত্যা মামলার অভি/যুক্ত নেতাদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সদ্য বিলুপ্ত কমিটিতে একক আধিপত্য বিস্তারকারী ‘রাবেতা’ ও ‘জমিয়ত’ সিন্ডিকেটও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

 

সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটিতে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারী বেশ কয়েকজনকে আবারও রাখা হয়েছে।

 

গত বছরের ১৫ নভেম্বর জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট হেফাজতের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেখানে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীসহ শফী অনুসারী কাউকে রাখা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *