নজর২৪, ঢাকা- অবিলম্বে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া এবং পাসপোর্ট থেকে ‘একসেপ্ট ইসরাইল’ বাদ দেয়ার প্রতিবাদে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন।
রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। সংবাদ সম্মেলনে দেশ এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেন তিনি।
অবিলম্বে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২রা জুন মানববন্ধন করবে তারা। এছাড়া ৩রা জুন দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরে মানববন্ধন করবে।
এছাড়া পাসপোর্ট থেকে একসেপ্ট ইজরাইল শব্দ বাদ দেয়ার প্রতিবাদে ও সংযোজনের দাবিতে ৫ই জুন শনিবার বিকেল তিনটায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া টিকা সংগ্রহ ও বিতরণকে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি একটি সর্বজনীন কমিটি করারও দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুন-
‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ বাদ দেওয়া কার্যত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া: চরমোনাইর পীর
বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দটি বাদ দেয়ায় সরকারের সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
পাসপোর্ট থেকে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া, কার্যত ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া বলে মন্তব্য করে সরকারের এই সিদ্ধান্তে তারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার সকালে পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চরমোনাইর পীর এই কথা বলেন।
বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দ বাদ, আসন্ন জাতীয় বাজেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াসহ দেশব্যাপী চলমান জেল-জুলুম ও মামলা প্রসঙ্গে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পাসপোর্ট থেকে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দটি বাদ দেয়ার বিষয়ে চরমোনাই পীর বলেন, ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে যখন গোটা বিশ্বের মানুষ সোচ্চার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও যখন প্রথাগত ইসরায়েলি পক্ষপাতের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে, তখন বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ৫০ বছরের ঐতিহ্য ছুড়ে ফেলে একসেপ্ট ইসরায়েল শব্দদ্বয় বাদ দেয়া হয়েছে। এই সংবাদে আমরা বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ।’
চরমোনাই পীর বলেন, ‘পাসপোর্ট থেকে এই শব্দ দুটি বাদ দেয়া কার্যত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়া। আমরা বাস্তবতা থেকে জানি যে, তাইওয়ানকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়া সত্ত্বেও একসেপ্ট তাইওয়ান শব্দ পাসপোর্টে উল্লেখ না থাকার কারণে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে তাইওয়ানের ভিসা নেয়া যায় এবং তাইওয়ানের সঙ্গে লেনদেন করা যায়। একইভাবে ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও এই শব্দদ্বয় তুলে দিয়ে কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার ব্যবস্থা খোলা হচ্ছে।’
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘অশুভ জায়নবাদের কাজের ধারা মাথায় রাখলে এই সত্য বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। একই সঙ্গে এই ইস্যুতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফাইড পেজ থেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ ও অধিকাংশ আন্তর্জাতিক মিডিয়া এটাকে বাংলাদেশ কর্তৃক ইসরায়েলে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হিসেবে সংবাদ পরিবেশন আমাদের আশংকাকেই সত্যায়ন করে।’
মালয়েশিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় একসেপ্ট ইসরায়েল শব্দদ্বয় কোনো বাধা নয়। এর পক্ষে অনেক যুক্তি থাকলেও সহজ অর্থে কেবল এতটুকু উল্লেখই যথেষ্ট হবে যে, এই শব্দদ্বয়সহই মালয়েশিয়ার পাসপোর্ট বিশ্বের ১৯তম শক্তিশালী পাসপোর্ট।’
