করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ঈদ শপিংয়ে মানুষের ঢল

নজর২৪ ডেস্ক- লকডাউনের মধ্যে গণপরিবহন চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বেড়েছে বিপণি বিতানে। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে ঈদের আগে কেনাকাটা করতে ছুটছে অনেকে। শুক্রবার (০৭ মে) নিউ মার্কেট ও চাঁদনী চক মার্কেট ছিল কানায় কানায় ভরা।

 

দম ফেলার ফুরসত নেই, ক্রেতা দরদাম করছেন, ফুটপাতের বিক্রেতাদের হাঁকডাক, রাস্তায় মানুষ আর নানা যানবাহনে একাকার। ফুটপাত তো বটেই, রাস্তার উপর ফুটওভারব্রিজেও হাঁটার জো নেই।

 

এই অবস্থা পুরো নিউমার্কেট, নীলক্ষেত মোড়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় পর্যন্ত। মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা যেন এক হয়ে আছে। ঈদ কেনাকাটা যা বলে। তাতে হাসি ফুটেছে বিক্রেতাদের।

 

চলমান লকডাউনে ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে গত ২৫ এপ্রিল থেকে ঢাকার দোকানপাট ও বিপণিবিতান খুলে দেয় সরকার। কিন্তু তখন বন্ধ ছিল গণপরিবহন। তাই ক্রেতাও ছিল কম। তবে, গতকাল থেকে বাস চালুর পর পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টেছে।

 

বিক্রেতারা বলছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ হলো দোকান খুলেছে। কিন্তু এতদিন কোনো রকম দোকান খরচ উঠত। এর মধ্যে গত শুক্র-শনিবার দুই ছুটির দিনেও ছিল না তেমন ক্রেতা।

 

তবে দুই দিন ধরে বাস ছাড়ার পর ক্রেতা বেড়েছে। মাসের শুরু, অনেকেই বেতন পেয়েছেন। আবার ঈদের আগে শেষ শুক্রবার। সামনে ছুটির দিন আর দুইটি। শনিবার ও শবে কদরের দিন সোমবার। বিক্রেতাদের এখনও একটাই চাওয়া, এমন ভিড় যেন থাকে ঈদের আগ পর্যন্ত।

 

নিউমার্কেটের জুতা বিক্রেতা মো. সবুজ বলেন, ‘আগেও অনেক কাস্টমার ছিল। তবে তার মধ্যে কেনার কাস্টমার ছিল কম। আজ কিন্তু বেশি লোক কিনতেছে। দামাদামিও করার সুযোগ কম।’

 

গাউছিয়ায় বাচ্চাদের পোশাক বিক্রেতা মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘আগে ১০ জন দরদাম করলে তিনজন কিনত। আজ ১০ জনের আটজনই কিনছে। ভিড় যেমন বেচাকেনাও তেমন।’

 

ফার্মগেট থেকে কেনাকাটা করতে এসেছেন আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, করোনার কারণে আয় আগের চেয়ে কমেছে। কিন্তু স্ত্রী অনেক দিন ধরে একটি ভালো শাড়ির জন্য বলছিল। তাই কষ্ট করে হলেও একটা কাতান শাড়ি কিনলাম। দাম খুব বেশি না, ২২০০ টাকা নিল। এ ছাড়া, ছেলে-মেয়ের জন্যও কিছু জামা কিনেছি।’

 

ঈদের কেনাকাটার ভিড়ে যেন হারিয়ে গেছে স্বাস্থ্যবিধি। অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। ক্রেতাদের মধ্যে যারা মাস্ক পরে আছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশের মাস্ক থুতনির নিচে। এ ছাড়া, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার প্রবণতা কোথাও নেই। অনেকে কেনাকাটা করতে এসেছেন সপরিবারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *