ঢাকা    ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যত দোষ, সাংবাদিক নন্দ ঘোষ

প্রকাশিত: ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২১

যত দোষ, সাংবাদিক নন্দ ঘোষ

মো: নজরুল ইসলাম, ঝালকঠি প্রতিনিধি: নিউজ ফিড গরম। বড় একটা অংশ সাংবাদিকদের একদম ধুয়ে দিচ্ছে ” মুনিয়ার মৃত্যুর পর সাংবাদিক কেন শিল্পপতির নাম প্রকাশ করল না? শিল্পপতি কি সাংবাদিকদের ভাসুর হয়? হু?

 

কেউ পারলে আগে সাংবাদিককে গালাগালি করে পরে জানতে চায় আসলে কি হইছে? আই রিপিট আগে গালি দিয়ে পরে জানতে চায় ঘটনা কি? আহা! অন্যকে গালাগালি করায় যে কি সুখ! এসব মিস করা যায় নাকি? ঘটনা সে পরেও জানা যাবে! কিন্ত সাংবাদিককে গালি দেয়া কোন ভাবেই মিস করা যাবেনা।

 

যে ব্যক্তির সংবাদ, সাংবাদিকতা নিয়ে ধারনা নেই সে ও ফাঁকতলে বিশাল জ্ঞানীর ভাব করে দুই চার কথা শুনিয়ে দিচ্ছে ” বুঝলে দেশের মিডিয়া সব বিক্রি। সাংবাদিকতা কেমন হওয়া উচিৎ এই ব্যাপারে তিনিও ফাকে জ্বালাময়ি স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

 

যারা সাংবাদিকদের নিয়ে চুলকানি করেন তাদের কাছে এবার কয়েকটা সোজা প্রশ্ন করি?

 

১. এই যে মুনিয়ার মৃত্যু…এটা আপনি জানলেন কিভাবে? আপনি নিজে তদন্ত করে বের করেছেন নাকি কোন সাংবাদিকের করা নিউজ থেকে জেনেছেন?

 

২. ঘটনার সাথে যে বসুন্ধরার মালিকের গুনধর পুত্র জড়িত শেষ পর্যন্ত এই গ্রুপের নাম বা গ্রুপ মালিকের গুনধর পুত্রর নাম আপনি জানলেন কিভাবে? আপনি বাসা থেকে বের হয়ে সব তদন্ত করে বের করেছেন নাকি কোন সাংবাদিকের করা নিউজ থেকে পেয়েছেন?

 

আপনি কোন না কোন সাংবাদিকের করা নিউজ থেকে সব জানলেন আবার ঢালাও ভাবে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত সবাইকে, আই রিপিট সবাইকে গালাগালি করছেন ” কেন তারা বসুন্ধরা আর গ্রুপের মালিকের গুনধর পুত্রের নাম নিচ্ছেনা ব্যাপারটা কি সাংঘর্ষিক নয়?

 

সব সাংবাদিক ধোয়া তুলসির পাতা সেটা বলছিনা। পৃথিবীর যে কোন পেশার সবাই যেমন ভালো নয়, তেমনি সবাই খারাপও নয়। আপনি যে পেশায় আছেন তার কি সবাই খারাপ? না। সবাই ভালো? উত্তর না।এখন তাই বলে কি অন্যরা ঢালাও ভাবে আপনার পেশার সবাইকে খারাপ বলতে পারে কি?

 

গনমাধ্যম দেশের চতুর্থ স্তম্ভ। এসির বাতাস খেতে খেতে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত সবাইকে গালি দেয়া সহজ। কিন্ত নিউজ করার ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে তা জানেন কি?

 

একটা সময় দেশে প্রচুর অনুসন্ধানী রিপোর্ট হত, এখন কম হয় কিন্তু কেন? সাংবাদিকরা মানুষনা তাই তাদের নিরাপত্তার দরকার নেই। সাংবাদিকরা মরলেও কিচ্ছু এসে যায় না। সাগর-রুনি নেই তাতে কি হইছে? কারো কিছু এসে যায় নাই। কয়েক দিন সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল হইছে এরপর সব স্বাভাবিক। শুধু সাগর -রুনির ছেলে মেঘ বড় হচ্ছে বাবা….মা ছাড়া। এতে সাধারণ মানুষের বয়েই গেছে!

 

হার্ডলাইনের নিউজ, স্পর্শকাতর নিউজ করার সময় ও অনেক ব্যাপার মাথায় রাখতে হয়। কারন ক্ষমতাবান, বিত্তশালীরা সামান্য ভুল পেলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে স্বয়ং সাংবাদিককেও ফাসিয়ে দিতে পারে! তা কি জানেন আপনারা।

 

হ্যা বিজ্ঞাপন, কমার্সিয়াল ব্যাপার আছে কিন্ত এর থেকেও বড় ব্যাপার নিরাপত্তা। যাই হোক যে শিল্পপতির নাম প্রকাশ করা হচ্ছেনা কেন মর্মে তামাম সাংবাদিক সমাজকে যে শূলে চড়ান হলো শেষ পর্যন্ত কি তার নাম বের হয়ে আসে নাই? বসুন্ধরা মালিকের গুনধর পুত্র সায়েম সোবহান আনভীরের নাম কি আপনারা কোন সাংবাদিকের করা নিউজ থেকেই পান নাই?

 

দুনিয়ায় সবচেয়ে সহজ কাজের একটি সাংবাদিককে গালি দেয়া। সত্য প্রকাশ করলে সাংবাদিককে গালি, নিউজ কারো বিপক্ষে গেলে সাংবাদিককে দে গালি, প্রকাশিত নিউজের পছন্দ হচ্ছেনা সুতরাং সাংবাদিকের সাত পুরুষ উদ্ধার করে, ভুয়া বলে দে গালি। সাথে মামলা তো বোনাস আছেই।

 

যে মিডয়া হাউজ বিক্রি হয়, যে সাংবাদিক বিক্রি হয় তার সামালোচনা করেন আপত্তি নেই। কিন্ত নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির জন্য, নির্দিষ্ট কোন হাউজের জন্য পুরা সাংবাদিক সমাজকে শুলে চড়ান কেন? এর দায়ভার তো নির্দিষ্ট ঐ সাংবাদিক বা মিডিয়া হাউজের, ঐ দায়ভার সব সাংবাদিক নিতে যাবে কেন?

 

একটা চ্যানেল শিল্পপতির ছবি ঝাপসা করে দিয়ে, মুনিয়ার ছবি প্রকাশ করে নিউজ করেছে….খোজ নিয়ে দেখুন শুধু সাধারণ মানুষ নয়, সাংবাদিকদের বড় একটি অংশই এর প্রতিবাদ করেছে। আর কোন পেশার মানুষ নিজেদের পেশার মানুষকে নিয়ে সমালোচনা করার এমন কলিজা দেখায় না।

 

দেশের বড় একটা অংশ নিউজের কমেন্টে সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ মনে করে গালি দিয়ে অর্গাজম সম সুখ লাভ করার মাধ্যমে জীবনের বড় প্রাপ্তি খোঁজে।সব দোষ,এ যেন সাংবাদিক নন্দ ঘোষ!