নজর২৪, ঢাকা- দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউ কয়েকগুন বেশি শক্তিশালী। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দেশের করোনার তৃতীয় ঢেউ আসা নিয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই দেশে দ্বিতীয় ঢেউ এলো। এখন তৃতীয় ঢেউয়ে যেন আক্রান্ত না হই সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, করোনার বিস্তার রোধে বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। জনসমাগম নিরুৎসাহে সব ধরনের সভা-সমাবেশ সীমিত করা হয়েছে। পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। ওয়াজ মাহফিল, সব ধরনের মেলা, পিকনিক বন্ধ রয়েছে। এভাবে কিছু দিন চললে আশা করা যায় সংক্রমণের হার কমে আসবে।
তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দ্বিতীয় ঢেউ কেন আসল, সে কারণও আমাদের খুঁজতে হবে।
‘আমরা লক্ষ করেছি জনগণ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খামখেয়ালিভাবে চলছে, যে কারণে দেশে দ্বিতীয় ঢেউ আসছে। যদি সতর্ক না হই, স্বাস্থ্যবিধি না মানি, তাহলে করোনার তৃতীয় ঢেউও আসতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আর কত চিকিৎসা দেব, হাসপাতলে আর কত শয্যা বাড়াবো। কত হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা দেব, আমরা কত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করবো। হাসপাতালতো আর রাতারাতি বৃদ্ধি করা যায় না। হাসপাতালের বেডওতো রাতারাতি বৃদ্ধি করা যায় না। তারপরেও আমরা এই অল্প সময়ের মধ্যে আড়াই হাজার বেড থেকে ৭/৮ হাজার বেড বৃদ্ধি করেছি। দশ গুণ রোগীও আমরা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু তারপরও বাড়লে আর সম্ভব হবে না। সেই জন্য আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা চাই করোনা থেকে যেন আমরা রক্ষা পাই। আশা করি, আমরা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাই, আমাদের জীবনযাত্রা যেন ভালো হয়। আমাদের যেন পুষ্টিকর খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার খুরশিদ আলম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক শাহানারা বেগম।
জাতীয় পুষ্টিসপ্তাহের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া।
