নজর২৪ ডেস্ক- ধর্মভিক্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের পর অনলাইনে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সংগঠনটির নেতারা।
রোববার (১৮ এপ্রিল) ইফতার শেষে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাটহাজারী মাদরাসার এক হেফাজত নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হবে এটা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন-
মাদরাসা থেকে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন মামুনুল হক
প্রমাণ পেয়েই মামুনুল হককে গ্রেফতার করেছি: ডিসি হারুন
মামুনুল হকের মাদ্রাসা শান্ত, রাস্তায় বিপুল পুলিশ
সূত্র জানায়, মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ডের পর থেকে হেফাজতের ওপর চড়াও হয়েছে সরকার। প্রথমে কর্মীদের, পরে স্থানীয় থেকে মধ্যম সারির নেতাদের এবং সর্বশেষ কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতার করছে সরকার।
এ পরিস্থিতিতে দলের করণীয় কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। হেফাজত কি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাবে নাকি সমঝোতার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ের ধকল সামলাবেন, সেসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর আগে আজ রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম ও ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের যৌথ অভিযানে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন-
মামুনুল হককে মুক্তি না দিলে ‘কঠোর আন্দোলন’
নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে দ্রুত মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। রোববার (১৮ এপ্রিল) বেলা ৩ টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা ইসমাঈল নূরপুরী, নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা আলী উসমান, মুফতি সাঈদ নূর ও যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন বিবৃতিতে তাকে মুক্তির দাবি জানান।
বিবৃতিতে খেলাফত মজলিস নেতারা বলেন, রোববার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১২টায় আল্লামা মামুনুল হককে মুহাম্মদপুরের জামিআ রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এভাবে রমজান মাসে আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও গ্রেফতার করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
‘হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধ এবং আটকদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় আলেম-উলামারা ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’
তারা আরও বলেন, হয়রানি ও গ্রেফতার করে আলেম-উলামাদের আন্দোলনকে ঠেকানো যাবে না। দেশের জনগণ ইসলাম ও দেশের প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত।
