বিনোদন ডেস্ক- মডেল ও অভিনেত্রী রোমানা ইসলাম স্বর্ণা খাবারের মাধ্যমে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে আপত্তিকর ছবি তোলার অভিযোগ করেছেন সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ী কামরুল হাসান।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) এ অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর ফেসবুকে সম্পর্ক। এরপর সে অসহায়ত্ববোধ করে। আমার ছেলেকে লেখাপড়া করাতে পারি না। মিডিয়াতে কাজ কর্ম হয় না। সে আমাকে বলে আমাকে একটা উবার কিনে দাও আমি আস্তে আস্তে টাকা পরিশোধ করে দেব। ১৮ লাখ টাকা দিয়ে উবার কিনে দেই।
তিনি বলেন, এরপর সে আমাকে বলে আমার ছেলে পড়ালেখা করে তার যাতায়াতের জন্য একটা মোটরসাইকেল দরকার। সে টাকাটাও দেই এবং বলে আমাকে আস্তে আস্তে দেবে। এরপর আমাকে দুএকবার ২০-৩০ হাজার টাকা রিটার্ন করে আমার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করে।
কামরুল বলেন, স্বর্ণা বলে লালমাটিয়ায় আমার এক আত্মীয়ের একটা ফ্ল্যাট আছে, সে ছেড়ে দেবে, এক কোটি ৯০ লাখ টাকা হলে নেয়া যাবে। এখান থেকে কিছু লাভ হবে, বাকিটা এসে তুমি নিয়ে যাবা। সে অনুযায়ী আমি তাকে টাকাটা দেই।
তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে আমি এক সময় দেশে আসি, সে আমাকে বাসায় যেতে বলে আমি যায়, একপর্যায়ে সে আমাকে আটকে রাখে। খাবারের মাধ্যমে চেতনাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর আমি সেন্সলেস হয়ে যায়। পরে আমাকে নগ্ন করে আমার খারাপ খারাপ ছবি তোলে এবং আমার স্ট্যাম্প নেয়। এরপর সে আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করে। বিয়ে না করলে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। সম্মানহানির ভয়ে স্বর্ণাকে আমি বিয়ে করতে বাধ্য হই।
কামরুল জানান, বিষয়টি প্রথমে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিলেও সামাজিক মর্যাদা ও মানসম্মানের ভয়ে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। বলেন, ‘ক্রমাগত হুমকির মুখে ২০ মার্চ নিকাহনামা রেজিস্ট্রির মাধ্যমে আমি তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে বাধ্য হই। নিকাহনামায় সে নিজেকে বিধবা হিসেবে উপস্থাপন করে।’
স্বর্ণার নির্দেশনায় দেনমোহর বাবদ নগদ ১০ লাখ টাকা পরিশোধের পাশাপাশি তার চাহিদামতো ৩৩ ভরি স্বর্ণ দিতে বাধ্য হন বলে জানান কামরুল।
প্রবাসী এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি তার বাসায় কয়েক দিন অবস্থান করতে বাধ্য হই এবং ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সৌদি আরবে চলে যাই। সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রথম দিকে সে আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে এবং আমি তাকে নিয়মিত সাংসারিক খরচ প্রদান করেছি।
‘চার-পাঁচ মাস পর সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসে তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে সে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকে এবং দেখা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ বিষয়ে আমি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারাও আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। স্বর্ণার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে ফ্ল্যাট ও গাড়ি বুঝিয়ে দিতে বললে সেসব নেই বলে জানায়।’
২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি আদালতে মামলা করেন কামরুল। মামলার পর স্বর্ণা টাকা, অলংকার, ফ্ল্যাট ও গাড়ি ফেরত দিতে চাইলে মামলা প্রত্যাহার করে সৌদি আরব ফিরে যান তিনি। চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব থেকে কামরুল বাংলাদেশে এসে ফোন করলে লালমাটিয়ার বাসায় যেতে নিষেধ করেন স্বর্ণা।
কামরুল বলেন, ‘১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার দিকে তাকে ফোন করলে সে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। মোহাম্মদপুর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম ও ফোর্সসহ রাত অনুমান ৩টার দিকে ওই বাসায় যাই। বাসার সিকিউরিটি জানায়, রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে স্বর্ণা বাসায় ফিরেছে।
‘আমি পুলিশ নিয়ে তার ফ্ল্যাটের সামনে যাই। সে দরজা না খুলে মোবাইলে এসআই সাইফুল ইসলামকে জানায় ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর সে আমাকে তালাক দিয়েছে। পরে এসআই সাইফুল ইসলাম তালাকের কপি আমার হোয়াটসঅ্যাপ আইডিতে পাঠান। আমি তালাকের কপিটি যাচাইয়ের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন অফিসে আবেদন করে জানতে পারি, নোটিশটি জাল।’
এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে মোহাম্মদপুর থানায় প্রতারণার মামলাটি করেন ওই সৌদি আরব প্রবাসী। মডেল স্বর্ণা রান আউট সিনেমায় নায়িকার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানা ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. দুলাল হোসেন শুক্রবার (১২ মার্চ) আসামিদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন।
বাদীপক্ষ থেকে আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তিন দিনের মধ্যে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি দল রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকা থেকে স্বর্ণাকে গ্রেপ্তার করে।
