নজর২৪, ঢাকা- দেশে আবারও আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারাদেশের ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষায় ৯১২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৭ জন।
একই সময়ে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবাই পুরুষ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দেশে এই মহামারিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ হাজার ৪৮৯ জনে।
এর আগে সর্বশেষ ১০ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতর একদিনে ১ হাজার ৭১ জনের করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার তথ্য দিয়েছিল। তারপর থেকে এ পর্যন্ত দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নয়শর নিচেই ছিল।
সংক্রমণ বাড়তে থাকায় দৈনিক শনাক্ত রোগীর হারও আবার ৫ শতাংশের ওপরে উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ২২৯ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৩৪৯ জন। সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২১৯টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১১৮টি, জিন-এক্সপার্ট ২৯টি, র্যাপিড অ্যান্টিজেন ৭২টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৭ হাজার ৯৭৩টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৫টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪১ লাখ ৮০ হাজার ৯৩৮টি।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার পাঁচ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৫৩ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৫৪ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৩ জনের মধ্যে ১৩ জনই পুরুষ। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১০ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে এক জন করে তিন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৩ জন।
মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ বছরে ঊর্ধ্বে পাঁচ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছররের মধ্যে দুই জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এক জন রয়েছেন।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৬৩ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩০৪ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন এক লাখ এক হাজার ৩২ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৯১ হাজার ৫৩০ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন নয় হাজার ৫০২ জন।
