নজর২৪ ডেস্ক- ইসলামী ব্যাংকের পর ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম’ও জামায়াতের হাতছাড়া হতে যাচ্ছে। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে জামায়াত ইসলামী দেশের ধনাঢ্য রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচিত ছিল, তার মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবিরের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেও পরিচিত।
জামায়াতের নেতাদের নিয়ে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের মেয়াদ শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে দেওয়া হয়েছে, যাতে স্থান পেয়েছেন সরকার সমর্থকরাই। নতুন ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সাংসদ আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীকে। এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জামায়াতের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সংস্থার সিংহভাগ অর্থায়নে ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। প্রথমদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় নিজস্ব ক্যাম্পাসের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে আরও দুটি ক্যাম্পাস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালিত হতো। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরের ক্যাম্পাস বন্ধ করে এখন শুধুমাত্র সীতাকুণ্ডের কুমিরায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান চলছে।
সীতাকুণ্ডের কুমিরায় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ৪৩ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ ক্যাম্পাসে আছে ৪৬টি ভবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয়টি অনুষদের অধীনে ১১টি বিভাগে আছে।
এগুলো হচ্ছে- কোরআনিক সায়েন্স অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মেসি, ব্যবসায় প্রশাসন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য ও আইন বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী আছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ বিদেশি শিক্ষার্থী। পূর্ণকালীন ৩৫০ জন শিক্ষকসহ পাঁচশ’রও বেশি শিক্ষক আছেন। এর মধ্যে ১০১ জন শিক্ষক হলেন পিএইচডি ডিগ্রিধারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা প্রায় চল্লিশ হাজার।
তবে অভিযোগ আছে, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছাড়া কাউকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই করে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা হয়।
এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টি নাশকতা ও সহিংসতার পরিকল্পনা ও সংঘটনের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। শুরু থেকেই গোলাম আজমসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতারাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপথ্যের নিয়ন্ত্রক ছিলেন, যাদের প্রায় সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন।
২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের এক পর্যায়ে ইসলামী ব্যাংকসহ জামায়াত ঘরানার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বর্জনের যে জোরালো দাবি উঠেছিল, তাতে এই আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও ছিল।
গত ২৬ বছর ধরে ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শাহ মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার। তবে ট্রাস্টি বোর্ডে ঘুরে-ফিরে জামায়াত ঘরানার লোকজনই থাকেন।
সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া) আসনের সাংসদ ও মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং তার অনুসারীদের। সূত্র- সারা বাংলা
