সেনা প্রধানের সঙ্গে জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক

নজর২৪, ঢাকা- যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান নির্ধারিত সফরসূচি মোতাবেক চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল প্রতিশ্রুতি ও অব্যাহত সমর্থন পূর্ণব্যক্ত করেন।

 

গত সোমবার বিকালে অপারেশন সাপোর্ট বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খায়েরের সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

 

আইএসপিআর জানায়, বৈঠককালে সেনাবাহিনী প্রধান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী পরিবহনে বাংলাদেশ বিমানকে তালিকাভুক্ত করার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। জেনারেল অতুল খারে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ বিমান সফলতার সাথে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী পরিবহনে ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়নসহ মানবাধিকার ইসতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

 

আলোচনায় জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের জনবল আরও বৃদ্ধি, আহত এবং নিহত শান্তিরক্ষীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ত্বরান্বিতকরণ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনিষ্পাদিত রিইমবার্সমেন্ট পরিশোধ, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রয়োগের ব্যবস্থাকরণ, অধিক হারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নির্ধারিত সময়ের পূর্বে প্রতিস্থাপনসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকন্টার ইউনিট প্রেরণ সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রাধান্য পায়।

 

এছাড়া বৈঠকে জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের অন্যান্য বাহিনীসমূহের শান্তিরক্ষা অভিযান কার্যক্রম সংক্রান্ত বিবিধ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

 

এদিকে, গত মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতিসেংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাগত জ্ঞান, নিয়মানুবর্তিতা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্ডার সেত্রেটারি জেনারেল জ্য পিয়েরে ল্যাক্রুয়া। তিনি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ও প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করে বাংলাদেশ সরকারকে ধনাবাদ জানান।

 

ল্যাক্রুয়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

তিনি আরও বেশি বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী মোতায়েনের বিষয়েও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জেনারেল আজিজ ইউনাইটেড ন্যাশনস্ পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেমের আওতায় মাত্র ৬০ দিন সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪টি কন্টিনজেন্টসহ সর্বমোট ১৫টি কন্টিনজেন্ট মোতায়েন হতে সক্ষম বলে তাকে আশ্বস্ত করেন এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিজিয়ন ও সুদানে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা বৃদ্ধির অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *