অর্থ-সম্পদলোভীরা টিকে থাকতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- যুবলীগ নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করতে গিয়েও যারা লোভের বশবর্তী হয়ে অর্থ-সম্পদকে বড় করে দেখেছে, তারা কিন্তু টিকতে পারেনি।

 

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ মিলনায়তনে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলেও মহামারির কারণে পিছিয়ে আজ এ আয়োজন করা হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা সাড়ে তিন বছরের মধ্যে একটি যুদ্ধ বিধস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। এরপর ২১ বছর এদেশের মানুষের জীবন থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়। সাধারণ মানুষ হয় বঞ্চনার শিকার। কারণ এই ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা নিজেদের ভাগ্য গড়তেই ব্যস্ত ছিল। যদিও তারা ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেসের গল্প শুনিয়েছে। কিন্তু ভাঙা সুটকেসই যাদুর বাক্স হয়ে গিয়েছিল আর ছেঁড়া গেঞ্জি তো তখন ফ্রেঞ্চ শিফন।’

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের কথা বলি, এরশাদের কথা বলি, খালেদা জিয়ার কথা বলি; যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই নিজেদের ভাগ্য নিয়েই ব্যস্ত ছিল। ব্যস্ত ছিল অর্থ সম্পদ নিয়ে। মানুষের জন্য তারা কিছু করেনি। করলে যে করা যায়, সেটা আমরাই প্রমাণ করেছি।’

 

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সময় থেকে আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দুর্যোগ আসে, দুর্যোগ আসবে। কিন্তু সেই দুর্যোগের সময় আমাদের শক্ত থাকতে হবে। মানুষের পাশে থাকতে হবে। পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, কাজ করতে হবে। তবেই যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করা যাবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ এজন্য দেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে যুবলীগের করোনাকালীন সময়ে বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের ভুয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি করোনার সময় কেউ অসুস্থ হলে, বাবা-মা অসুস্থ হলে নিজের সন্তানও পাশে দাঁড়ায়নি। কিন্তু আমাদের যুবলীগের কর্মীরা তাদের পাশে গেছে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা তারা করেছে। মৃতদের দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী এবং ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে।’

 

কৃষদের আমন ধান কাটা, বন্যা দুর্গত, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনসহ শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি যুবলীগের নেতাকর্মীদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘তারা মানবতার জন্য এই কাজগুলো যে করেছে, এটাই হচ্ছে সব থেকে বড়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষকে সাহায্য করে, এটাই সব থেকে বেশি প্রয়োজন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *