নজর২৪ ডেস্ক- সম্প্রতি গাজীপুর কালিয়াকৈরে এক মাহফিলে গিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। এদিন বয়ানের কিছু অংশ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
হেফাজত নেতা মামুনুল হক শুরুতেই উস্তাদ ছাত্রর খেদমত, মুহাব্বত নিয়ে আলোচনা শুরু করেন, যার চুম্বক অংশ হলো: আমি বাইশ বছর যাবত আমার উস্তাদের খেদমত করছি, মিয়া তুমি তো দেখছো দূর থেকে আমাদের ছাত্ররা আমাদের বাতাস করে শুধু, খালি বাতাস করেনা আমাদের গায়ে টোকা দিয়া দেখো তারা জীবন দিতেও প্রস্তুত।
এখনো সুযোগ পেলে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর জুতা নিয়ে আমরা হাটি, উনার জুতা বহন করাকেও আমরা নিজেদের গৌরব সৌভাগ্য মনে করি।
বয়ানের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, একদল লোক বলে জাতীয় ইস্যুতে আমরা আলেম-উলামারা কেনো কথা বলি! আমাদের কথাগুলো শুধু কান দিয়ে শোনবেননা, আমাদের হ্নদয়ের ব্যাথাগুলোও বুঝার চেষ্টা করবেন। আমরা জাতির কল্যানকামী-উপকারী, অপকারী নই।
তিনি আরো বলেন, আমরা কেনোইবা কথা বলবোনা, আমার বাবারা আমার দাদারা, আমাদের পূর্ববর্তীরা অনেক ত্যাগ-কষ্ট স্বীকার তবে এ ভুখন্ডটাকে মুক্ত ও স্বাধীন করেছিলেন। স্বাধীন এজন্য করেননি, এদেশের পরবর্তী জেনারেশন নাস্তিক হবে, স্বাধীন করেছিলেন এ জন্য নয়, পরবর্তী জেনারেশন কে খ্রীষ্টান মিশনারীরা টাকা দিয়ে কিনে নিবে।
এ দেশটাতে স্বাধীন করা হয়েছিলো, এ দেশের মুক্ত আসমানের নিচে, মুক্ত জমিনের উপর দাড়িয়ে, উচ্চ কন্ঠে, মুক্ত কন্ঠে জয়োগান গাইবো এক আরশের মালিক আল্লাহর।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আমাদেরকে সার্কুলার বসিয়ে দেন। এটা গাইতে হবে, ঐটা গাইতে হবে মসজিদের মিম্বরে বসে, আপনারা কি জানেন? আপনার সার্কুলার অনুযায়ী আজকে আমি বক্তব্য দিলে কেয়ামতের দিন আমাকে আল্লাহর দরবারে দাড়িয়ে জবাব দিতে হবে, কেনো আমি ইসলাম বিরোধী বক্তব্য দিয়েছিলাম।
দোহাই লাগে আমাদের কে এমন কোন নির্দেশ দিবেননা, যে নির্দেশ পালন করতে আল্লাহর নির্দেশ লঙন করতে হয়। যদি আমাদেরক এমন কোন কথা বলেন আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, আল্লাহর আনুগত্য রক্ষা করার জন্য, সকলের আনুগত্যকে আমরা দু’ পায়ে মাড়াতে প্রস্তুত।
যারা আল্লামা মামুনুর হক ও আলেম সমাজকে ভাড়াটিয়া মনে করে, তাদের উদ্দেশ্যে মামুনুল হক সাহেব বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় করার পর দু পাকিস্তানে স্বাধীনতার পতাকা উওোলন করেছিলেন মামুনুল হকের বাপের দুই উস্তাদ। একটা নাস্তিকও ভাষা আন্দোলনের শরীক হয়নি।
এছাড়াও তিনি আলেমওলামাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আলেম ওলামারা যারা আমাদের উপর বিরক্ত, তাদের কাছে বিনীত ভাবে অনুরোধ, মাফ চাই মাফ চাই, আমি ভাড়াটিয়া হিসেবে কারো সাথে আচরন করতে পারবো না।
তিনি আরো বলেন, জীবন যেতে পারে যতো দিন ঘাড়ের উপর কল্লা আছে, কল্লা উচু থাকবে, কল্লা ঘাড় থেকে কেটে পরে যাবে, তবুও এ কল্লা কোন মাখলুকের সামনে নতো হবে না ইনশাআল্লাহ।
বয়ানের শেষ দিকে তিনি বলেন, জাতীয় কবির ভাষায় বলতে চাই শির দেগা নেহি দেগা আমামাহ তথা মাথা দিবো মাথার উপর থেকে পাগড়ী দিবোনা, কল্লা দিবো কল্লার উপর থেকে পাগড়ী খুলতে পারবানা দিবোনা, কথা পরিষ্কার থাকলে বাড়িওয়ালার মতো থাকবো, নিজের বাড়িতে ভাড়াটিয়ার মতো থাকতে পারবো না।
