নজর২৪, ময়মনসিংহ- ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জাতীয় পার্টির সাবেক সাংসদ সদস্য এনামুল হক জজ মিয়াসহ দুইশত ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে আধাপাকা ঘর এবং জমি প্রদান করা হয়।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে উপকারভোগীদের কাছে ঘর এবং জমি প্রদান করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন বাদল, পৌর মেয়র এস এম ইকবাল হোসেন সুমন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তাজুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আতাউর রহমান, ৬৫ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেশমা আক্তারসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সাবেক দুই বারের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এনামুল হক জজ মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাবেল গোলন্দাজে এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। দোয়া করি আল্লাহ উনাদের মঙ্গল করুন। আমি জীবন সায়াহ্নে এসে সর্বস্বান্ত হয়েছি। মাথাগোঁজার কোন ঠাই ছিল না। ভাড়া করা বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমার মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। সাত আট বছরের ছোট্ট একটা ছেলে আছে আমার। শেষ বয়সে এসে ছেলেটার একটা ঠিকানা হলো। আমি এখন শান্তিতে মরতে পারবো।
সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান দেশে কোনও মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে। সাবেক সাংসদ এনামুল হক জজ মিয়া চাচাকে প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার তুলে দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের পালিত মেয়ে নাজুকে ১৯৭২ সালে বিয়ে করেন এনামুল হক জজ। পরে ১৯৮৩ ও ১৯৮৬ সালে ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসন থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে দু’বার সংসদ সদস্য হন তিনি।
এক সময় তার গফরগাঁও পৌর শহর ও ঢাকায় বিলাসবহুল বাড়ি ছিল। কিন্তু সর্বশেষ পৌর শহরে ১২ শতাংশ জমি মসজিদের নামে লিখে দিয়ে এক রুমের ভাড়া বাসায় থাকছিলেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে। খাট কেনার সামর্থ্য না থাকায় মেঝেতেই ঘুমাতেন তিনি।
প্রথম স্ত্রী নাজু এক মেয়েকে নিয়ে আমেরিকায় থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রী নাছিমা হক ঢাকার পুরানা পল্টন ও মিরপুর কাজী পাড়ায় দুই সন্তান নিয়ে দুটি বাড়িতে থাকেন। সহায় সম্পদ যা ছিল সবই এই দুই স্ত্রী ও সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছিলেন এনামুল হক। এরপর তিনি তৃতীয় স্ত্রী রুমার সঙ্গে পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাসায় ৮ বছরের সন্তান নুরে এলাহীকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন।
সম্প্রতি তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
