কওমি মাদরাসা গড়েছেন বাইডেন প্রশাসনের বাংলাদেশি জাইন সিদ্দিকীর পরিবার

নজর২৪ ডেস্ক- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসা নবনির্বাচিত প্রসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশি জাইন সিদ্দিকী। এটি পুরনো খবর।

 

তবে নতুন যে খবর দিবো পাঠকদের; সেটি হলো তার পরিবার বাংলাদেশে গড়েছেন একটি কওমি মাদরাসা। বর্তমানে মাদরাসাটি বেশ সুনামের সাথেই পরিচালিত হচ্ছে। মাদরাসাটির নাম ‘মাহবুব সিদ্দিকিয়া নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা’।

 

জানা যায়, জাইন সিদ্দিকীর বাবা ও স্বজনরা পরিচালনা করছেন এই কওমী মাদরাসাটি। জাইনের দাদা আবু বকর সিদ্দিক ১৯৯০ সালে নিজস্ব সম্পত্তিতে মাহবুব সিদ্দিকিয়া নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদরাসা নামে এই কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

 

প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা জাইনের ফুফাতো ভাই হাফেজ মাওলানা আল-আমিন মাদানী জানান ‘মাদরাসাটিতে বর্তমানে ১২০ জন ছাত্র আবাসিক থেকে পড়াশোনা করছে। এদের মধ্যে অনেক এতিম গরীব শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। এদের ভরণ-পোষণসহ মাদরাসার যাবতীয় খরচ জাইনের বাবা-চাচা ও ফুফুরা বহন করে থাকেন’।

 

গণমাধ্যমে ওঠে আসা প্রতিবেদনের আলোকে জানা যায়, বাংলাদেশি আমেরিকান হিসাবে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চস্থ পদে এর আগে আর কোন বাংলাদেশি নিয়োগ পায়নি। তার পদের নাম ‘ডেপুটি চিফ অব স্টাফের সিনিয়র অ্যাডভাইজার’।

 

বাংলাদেশের এই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ময়মনসিংহের নান্দাইলের জাইন সিদ্দিকী এমন উচ্চ পদে নিযুক্ত হয়েছেন। ৩০ বছর বয়সী জাইন সিদ্দিকী নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের মাদারীনগর গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদ সিদ্দিক ওরফে মামুন ও কামরুন আবেদীন হেলেনা সিদ্দিক দম্পতির একমাত্র ছেলে। তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক।

 

৩২-৩৩ বছর আগে তারা পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেই জন্ম জাইনের। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন দাদি মাজেদা আক্তারও। নান্দাইলের শেরপুর ইউনিয়নের মাদারীনগর গ্রামে গেলে জাইনের স্বজন ও গ্রামবাসী জানান, প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে জো বাইডেনের প্রশাসনে এতো বড় গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নিয়োগ পাওয়ায় গ্রামের মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের এপ্রিলে বাবাকে নিয়ে গ্রামে এসেছিলেন তিনি।

 

সবাই বলছেন, জাইন সিদ্দিকী শুধু নান্দাইলের নন, ময়মনসিংহের গর্ব, বাংলাদেশের গর্ব। তার নিয়োগের খবরে এলাকায় মিষ্টি বিতরণের পাশাপাশি মসজিদে মসজিদে দোয়ার অনুষ্ঠান হয়েছে। গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, জাইন গ্রামের মানুষের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে দাঁড়াবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *