নজর২৪ ডেস্ক: তালিকায় নামগুলো দেখলেই অবাক হয়ে যাবেন। শচিন টেন্ডুলকার, স্যার গারফিল্ড সোবার্স, ইমরান খান, মার্টিন ক্রো- ক্রিকেটের ইতিহাস বদলে দেয়া একেকজন মহারথির অবস্থান। যে তালিকাটি করেছে আবার, ক্রিকেটের বাইবেলখ্যাত ‘অ্যালমানাক’ রচয়িতা- উইজডেন।
সেই তালিকায় সাত নম্বর জায়গাটি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের! তালিকাটা দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। সেখানে বাংলাদেশের মুশফিকুর রহীম- অবাক করা বিষয় নয়?
তালিকার শিরোনামে আবার দেয়া হয়েছে, ‘গ্রেটেস্ট’। অর্থ্যাৎ- সর্বকালের সেরা। সেই তালিকায় মুশফিকুর রহীমের নাম। অনেকের চোখেই অবিশ্বাস্য ঠেকছে। কিন্তু ঘটনা সত্য। যদিও সেই ‘গ্রেটেস্ট’ শব্দের আশ-পাশে তাকালেই রহস্যটা বোঝা যাবে।
উইজডেন এমন একটি একাদশ তৈরি করেছে ক্রিকেটের পুরো ইতিহাস নিয়ে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, একেবারে টিনেজ বয়স থেকে ক্যারিয়ার শুরু করে যারা শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন এবং গ্রেট ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছেন- তাদেরকে নিয়েই উইজডেন তৈরি করেছে সেরা একাদশ। যেখানে উইকেটরক্ষক হিসেবে ঠাঁই মিলে গেছে মুশফিকুর রহীমের।
নিঃসন্দেহে টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম। যার নামের পাশে রয়েছেন তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংস। যে কারণে মিস্টার ডিপেন্ডেবল নামেও খ্যাত এই ব্যাটসম্যান। উইকেটরক্ষক হিসেবেও ক্যারিয়ারের শুরু থেকে রেখে আসছে সফলতার স্বাক্ষর। সেই ব্যাটসম্যানকে সেরার তালিকায় রাখতে পারাতে যেন উইজডেনেরই স্বার্থকতা।
যাকে তারা নাম দিয়েছে, ‘উইজডেন টিনএজ রায়ট এলিভেন’। যার নিচে লিখেছে, অ্যা টিম অব গ্রেটেস্ট, হু স্টারটেড ইয়ং। মুশফিকুর রহীম নিজের ফেসবুক পেজে এই তথ্য নিজেই জানিয়েছেন। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। কিংবদন্তিদের তালিকায় আমার নাম, কী এক অনুভূতি! সত্যিই আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি, উইজডেনের – কিশোর থেকে কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়া ক্রিকটোরদের একাদশে ঠাঁই পেয়ে।’
সেই বিরল একাদশে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার নেইল হার্ভের সঙ্গে ওপেনিংয়ে রয়েছেন শচিন টেন্ডুলকার। তিন নম্বরে রয়েছেন ইংল্যান্ডের ডেনিস কম্পটন। চার নম্বরে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি মার্টিন ক্রো। পাঁচ নম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি গ্রায়েম পোলক, ছয় নম্বরে ক্যারিবীয় কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সকে রাখা হয়েছে।
সাত নম্বরেই রয়েছেন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহীম। এরপরের নামটিই ইমরান খানের। তাকে রাখা হয়েছে আবার এই একাদশের অধিনায়ক হিসেবে। ৯ নম্বরে ভারতীয় স্পিনার অনিল কুম্বলে। ১০ নম্বরে আরেক পাকিস্তানি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম এবং ১১ নম্বরে রাখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্সকে।
২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত লর্ডসে ১৬ বছর ১৭ দিন বয়েসে টেস্ট অভিষেক হয় মুশফিকুর রহীমের। সেবারেই প্রথম ইংল্যান্ড সফরে যায় বাংলাদেশ। সেবার প্রস্তুতিমূলক ম্যাচেই সাসেক্সের বিপক্ষে ৬৩ এবং নটিংহ্যামশায়ারের বিরুদ্ধে অপরাজিত ১১৫* রানের ইনিংস খেলে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিক।
লর্ডস অভিষেক হয় তার। সেই ম্যাচে মাত্র ১৯ রান করলেও তিনি বুঝিয়ে দেন, দীর্ঘদিন খেলার জন্যই এসেছেন ক্রিকেটে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখিয়েছেন তিনি। ৭০ টেস্টে তার রান ৪৪১৩।
উইজডেনের কৈশোরে অভিষেক হওয়া সেরা টেস্ট একাদশ:
১। নেইল হার্ভে
২। শচিন টেন্ডুলকার
৩। ডেনিস কম্পটন
৪। মার্টিন ক্রো
৫। গ্রায়েম পোলক
৬। গ্যারি সোবার্স
৭। মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক)
৮। ইমরান খান (অধিনায়ক)
৯। অনিল কুম্বলে
১০। ওয়াসিম আকরাম
১১। প্যাট কামিন্স
