নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান তারকা এবং পুরো বিশ্বের জন্য টেকসই উন্নয়নের মডেল হয়ে উঠেছে।
বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। খবর- ইউএনবি’র
রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে এই সংকট সমাধানে ঢাকাকে অব্যাহত সমর্থন দেয়ার আশ্বাস দেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই বোঝা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভাগ করে নিতে পারে।’
চাভুসওগ্লু বলেছেন, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই নিরাপদে, স্বেচ্ছায় এবং ও মর্যাদার সাথে স্বদেশে (মিয়ানমার) ফিরতে হবে এবং এক্ষেত্রে দুই দেশ (বাংলাদেশ ও তুরস্ক) একসাথে কাজ চালিয়ে যাবে।
প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তরিত করে তাদেরকে উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে জাতিসংঘ এবং এর সংস্থাগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করারও পরামর্শ দেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে রোহিঙ্গা সংকটের এই বোঝা ভাগ করে নেয়ার বিষয়ে ইউএনবির এক প্রশ্নের জবাবে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি এখানেও একই সমস্যা দেখেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে।
তবে শুধু প্রশংসামূলক শব্দ নয়, বোঝা ভাগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও বেশি সমর্থন এবং এ বিষয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ চেয়েছেন চাভুসওগ্লু। বোঝা ভাগাভাগির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল প্রশংসামূলক শব্দ শুনতে চাই না।’
রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে স্থানান্তর সম্পর্কে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি তাদের প্রস্তাবের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ যে তারা শরণার্থীদের জন্য আরও ভালো শিবির তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে এবং এ বিষয়ে তবে তুরস্কের অবস্থান দৃঢ়।
‘তবে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত, উন্নত জীবনযাত্রা তাদের প্রাপ্য’, বলেন চাভুসওগ্লু।
