মধ্যরাতে চা-বিস্কুট খাওয়ানোর বিনিময়ে ‘মহামূল্যবান ঘুষ’ নেন পুলিশ!

নজর২৪ ডেস্ক- রাস্তায় দুর্ঘটনা কম বেশি প্রতিদিনই হয়ে থাকে আর সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা হয় রাতে। রাত্রিকালীন সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানেই উঠে আসে চালকদের ঘুমঘুম চোখে গাড়ি চালানোর দায়।

 

তাই মধ্যরাতে চালকদের ঘুম দূর করতে ‘রিফ্রেশমেন্ট পয়েন্ট’ সেবা চালু করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মোঃ আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার)।

 

রিফ্রেশমেন্টর পয়েন্টে চালকদের মুখ ধোয়ার জন্য রাখা হয় গরম পানি। সঙ্গে চা-বিস্কুট। তবে এই চা-বিস্কুট খাওয়ানোর বিনিময়ে ‘ঘুষ’ নেন পুলিশ। তবে এই ‘ঘুষ’ টাকা না। টাকার চেয়েও মহামূল্যবান ‘ঘুষ’ নেওয়া হয় চালকদের কাছ থেকে। তা হলো চালকদের হাসি ও ভালোবাসা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে এমনি এক স্ট্যাটাস দেন চালকদের জন্য ‘রিফ্রেশমেন্ট পয়েট’ চালুকারী এএসপি আনোয়ার হোসেন। যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়।

 

রোববার (২০ ডিসেম্বর) রাতে আনোয়ার হোসেন (শামীম আনোয়ার) তার ফেসবুকে লেখেন, ‘চালকদেরকে চা-বিস্কিট খাওয়ানোর আড়ালে আমরা নাকি প্রকৃতপক্ষে ঘুষের লেনাদেনা করার উদ্দেশ্যেই রাত্রিবেলা রাস্তায় নামি! নানান ছলচাতুরীর আড়ালে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেই মোটা অংকের অর্থ!!!

 

কথা একেবারে মিথ্যেও নয়। ঘুষ হিসেবে টাকা না নিলেও মহামূল্যবান ঘুষ হিসেবে আমরা গ্রহণ করি চালক ভাইদের টুকরো টুকরো হাসি আর নিখাদ ভালবাসা। ভিডিওতে দেখুন, কি অসাধারণ আমাদের ঘুষ গ্রহণ প্রক্রিয়া। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শুধু এই ঘুষগুলোই খেয়ে যেতে চাই বারবার, বহুবার।’

 

উল্লেখ্য, এরআগে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, রাউজানের পাহাড়তলীর চৌমুহনী বাজার এলাকায় সড়কের পাশে পুলিশের সার্কেল কার্যালয়ের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ অস্থায়ী বিশ্রামাগার। পুলিশ সদস্যরা বেছে বেছে দূরপাল্লার নৈশকোচ ও ট্রাকগুলোকে দাঁড় করাচ্ছেন। এরপর বুঝিয়ে গাড়ি থেকে নামানো হচ্ছে চালক ও তাঁদের সহকারীদের।

 

বেশির ভাগ চালকই প্রথমে এটাকে পুলিশের চাঁদাবাজির নয়া কৌশল ভেবে বিভিন্ন অজুহাতে নামতে চাচ্ছিলেন না। কিন্তু পরে যখন দেখছেন কেটলি হাতে চা-কফি নিয়ে এগিয়ে আসছেন পুলিশ সদস্যরা, তখনই ভুল ভাঙে তাঁদের।

 

সার্কেল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই ও রাঙামাটি সড়কে এ রকম চার-পাঁচটি বিশ্রামাগার চালু করা হয়েছে। সেখানে নির্দিষ্টসংখ্যক পুলিশ সদস্য এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নামানোর পর বেশ কিছুক্ষণ চালক ও সহকারীদের সঙ্গে গল্প জুড়েছেন সার্কেল এএসপি আনোয়ার হোসেনসহ পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাঁরা চালকদের সচেতন করতে নানা পরামর্শ দেন। ঝিমুনি প্রতিরোধে সেখানে রাখছেন হাত-মুখ ও ঘাড়ে পানি দিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও। তারপর একবার ব্যবহারোপযোগী কাপে চা, সঙ্গে বিস্কুট খাইয়ে সাবধানে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিয়ে গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা করিয়ে দিচ্ছেন চালকদের। এমন সেবায় চাঙা ভাব আসছে চালকদের মধ্যে।

 

নুরুল আলম নামের এক বাসচালক বলেন, রাতে গাড়ি চালাতে অনেক সময়ই তাঁদের ঘুম চলে আসে। কিন্তু গভীর রাতে চা খাওয়া বা হাত–মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। পুলিশ যে তাঁদের জন্য এতটা ভাবছে, এটা আনন্দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *