নজর২৪, ঢাকা- নভেল করোনাভাইরাসের টিকা বিনামূল্যে দেবে সরকার। প্রথম দফায় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি টিকার তিন কোটি ডোজ কিনবে বাংলাদেশ। এসব টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নীতিমালা অনুযায়ী জনগণকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ সোমবার এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে অনলাইনে সভায় অংশ নিয়ে এতে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, টিকা কেনার জন্য ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনকূলে ছাড় দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার এই টিকা কিনে আনবে এবং বিনামূল্যে তা সরবরাহ করবে।’
বিনামূল্যে টিকা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, ‘অক্সফোর্ডের তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে অক্সফোর্ডের ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে সিরাম ইনস্টিটিউট।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৪ অক্টোবর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য অক্সফোর্ডের তৈরি ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত ভ্যাকসিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে ৩ কোটি ডোজ বিক্রির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সাথে সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর ১৬ নভেম্বর অর্থ বিভাগ ভ্যাকসিন কেনার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থনৈতিক ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠাবে। এ প্রস্তাব চলে এসেছে।’
ভ্যাকসিন কারা পাবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটা গাইডলাইন আছে। প্রথম কারা পাবে, দ্বিতীয় ধাপে কারা পাবে সে অনুযায়ী তারা (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) একটা প্রোগ্রাম ডেভেলপ করছে।’
‘ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার, পুলিশ, প্রশাসনের লোক যারা মাঠে চাকরি করতেছে, তারপর বয়স্ক লোক, বাচ্চা- এ রকম একটা প্রটোকল আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে এই ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দেয়া হবে। টাকা সরকার পে করে দিচ্ছে। তিন কোটি ভ্যাকসিন ফ্রি দেয়া হবে।’
