আমার অভিশাপে দিঠি অভিনয় করতে পারেনি: শাহরিয়ার নাজিম জয়

১৯৯৩ সালে ‘উল্কা’ সিনেমায় প্লেব্যাকের মধ্য দিয়ে গানের ভুবনে পথচলা শুরু উপমহাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার, প্রযোজক, পরিচালক, সুরকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কন্যা কণ্ঠশিল্পী দিঠি আনোয়ারের।

সম্প্রতি সেই দিঠি আনোয়ারের সঙ্গে নিজের শৈশবের একটি স্মৃতি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে জয় জানান, তার অভিশাপেই মামাতো বোন গায়িকা দিঠি আনোয়ার অভিনয় করতে পারেননি। হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী।

মামাতো বোন দিঠিকে নিয়ে ফেসবুকে পুরনো দিনের একটি ছবি পোস্ট করেন জয়। ওই ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, আমার বন্ধু। তার ডামি চরিত্রে অভিনয় করে আমার অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল। সিনেমার নাম ‘শাস্তি’। তার কারণে আমি নায়িকা ববিতার কোলে উঠতে পেরেছিলাম।

বিষয়টি প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জয় বলেন, ১৯৮০ সালে ‘শাস্তি’ সিনেমা নির্মাণ করেছিলেন দেশবরেণ্য গীতিকবি এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। এই সিনেমায় ববিতার ছোট ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মামা গাজীর মেয়ে দিঠি। কিন্তু পরে ওই সিনেমায় দিঠির ডামি হই আমি।

রহস্য ভেঙে জয় বলেন, মামার পরিচালিত দ্বিতীয় সিনেমার গল্প অনুযায়ী ময়নামতিতে একটি শুট শুরু হয়। ওই সময় ডিসেম্বর মাস থাকায় আমার আর দিঠির স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। বার্ষিক পরীক্ষার মাঝে মামি কোনোভাবেই শুটিংয়ের জন্য দিঠিকে দিতে চাইছিলেন না। দিঠির মতো আমিও তখন তৃতীয় শ্রেণিতেই পড়ি। পরীক্ষার আগে শুটিংয়ের শিডিউল পড়ায় মামা আমাকে দিঠির পোশাক পরিয়ে শুটিংয়ে নিয়ে যান।

জয় আরও বলেন, দিঠি অনেক মেধাবী। সব সময় ক্লাশে ফার্স্ট, সেকেন্ড হতো। সেবারও হয়েছিল। আর আমি তেমন মেধাবী ছিলাম না। মোটামুটি পাস করে নতুন ক্লাশে উঠতাম। সে বারও তেমনই হয়েছিল। তাই এখনও মনে মনে ভাবি, মামা-মামির ষড়যন্ত্রে সেই যে অভিনয় করলাম, এখনও করছি। আমার অভিশাপে দিঠি আর অভিনয় করতে পারেনি। গানের কণ্ঠ ভালো হওয়ায় আমার মামাতো বোনটি জনপ্রিয়তা পেল গায়িকা হিসেবেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *