অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের বেশিরভাগ দৃশ্যের শুটিং হতো রাতে: তাসনিয়া ফারিণ

আলোচিত মডেল-অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। টোলপড়া মিষ্টি হাসি, মায়াবী চাহনি আর সেই সঙ্গে অভিনয়ের কারিশমা। তরুণ প্রজন্মের দর্শকের কাছে যিনি একটু বাড়তি আকর্ষণ। ক্যারিয়ার খুব বেশি দিন না হলেও বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। শুধু টিভি নাটকেই নয়, দ্যুতি ছড়িয়েছেন অভিনয়ের সব মাধ্যমেই।

আরও পড়ুন-

আমরা কষ্ট হজম করে হাসিমুখে বিনোদন বিলিয়ে বেড়াই: চঞ্চল চৌধুরী

ব্লাউজের মাপ আমাদেরই ঠিক করতে হবে: স্বস্তিকা মুখার্জি

ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে সে সময়ই নিজের দীর্ঘদিনের প্রেমিককে বিয়ের খবরটি সামনে আনলেন। অভিনয়ের ক্ষেত্রে নির্মাতা ‘অ্যাকশন’ বলার পরপরই যেন ভিন্ন মানুষ হয়ে যান তিনি।

ঘোরাঘুরি ওড়াউড়ি

ভীষণ ঘুরতে পছন্দ করেন তাসনিয়া ফারিণ। সেক্ষেত্রে বাজেট ট্রিপ হলেও যেন সমস্যা হয় না তার। তাসনিয়া ফারিণের কথায়,‘পৃথিবীটা ঘুরে দেখতে চাই। এক জীবনে তো পুরোটা সম্ভব না। তবু ঘোরাঘুরিতে ভীষণ এনার্জি পাওয়া যায়। আমি মনে করি ভ্রমণ একটা বড় পাঠশালা।’

জনপ্রিয়তা আর দর্শক গ্র্রহণযোগ্যতায় এখন শীর্ষে অবস্থান করছেন এই তরুণী। এর মাঝে নিজের অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক কাজগুলোর বেশ কিছু কাকতালীয়ভাবে দেশের বাইরেই শুটিং হয়েছে। যেমন আরিয়ানের ‘পুনর্মিলনে’ হলো নেপালে, টলিউডে প্রথম চলচ্চিত্র ‘আরো এক পৃথিবী’র শুটিং হলো লন্ডনে, থাইল্যান্ডেও কাজ করা হয়েছে বেশকিছু। সর্বশেষ দুটি প্রোডাকশনের কাজ করে ফিরলেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। নিজের কাজের ক্ষেত্রে প্রডিউসারের কাছে দেশের বাইরে লোকেশন রাখার আলাদা ডিমান্ড থাকে কিনা এমন প্রশ্নে তাসনিয়া ফারিণ বলেন,‘না প্রতিটিই গল্পের প্রয়োজনেই বাইরে যেতে হয়েছে। আর কাজের বাইরেও আমি প্রচুর ঘুরি। ঘুরতে আমার সত্যিই ভালো লাগে।’

ওটিটির সেরা!

অনেকেই মন্তব্য করেন তাসনিয়া ফারিণ ওটিটিতে দারুণ লাকি। বিশেষ করে শাওকীর নির্মাণে ‘কারাগার’ সিরিজটিতে ফারিণের চরিত্র নিয়েই চারদিকে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। এখনকার ওটিটির কাজ নিয়ে ফারিণ বলেন, ‘ওটিটির কাজ নিয়েই বেশ ব্যস্ত। সবে আমার অভিনীত একটা ওয়েবফিল্ম রিলিজ হলো। নাম ‘বাবা, সামওয়ান ইজ ফলোয়িং মি’। শিহাব শাহীনের পরিচালনা। এছাড়া নতুন কিছু কাজের পরিকল্পনা করছি। চিত্রনাট্য দেখছি। এসব নিয়েই ব্যস্ত আছি।’

ওয়েবফিল্মটির বেশিরভাগ অংশের শুটিং অস্ট্রেলিয়াতে হয়েছে। এর অভিজ্ঞতা প্রঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন শুটিং করেছি, তখন ওখানে শীতকাল। তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কখনো কখনো ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও নেমে যেত। এদিকে আমাদের বেশিরভাগ দৃশ্যের শুটিং হতো রাতে। সেসঙ্গে আমার এলার্জির সমস্যা আছে। ফলে ঠান্ডায় শুটিং করতে খুব কষ্ট হয়েছে। দৌড়াতে দৌড়াতে আমার পা ফুলে গেছে। এক পর্যায়ে আমি শিহাব শাহীন ভাইকে বলেছি আমাকে দেশে পাঠিয়ে দেন, প্লিজ। কিন্তু একবার কাজ শেষ হয়ে গেলে, এসব কষ্ট আর মনে থাকেনি।’

স্টারডমের দরদাম!

নিজের পারিশ্রমিক তারকারা কীভাবে বাড়ান? জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তারকাদের নিজেদের আনুপাতিক হারে বিষয়টা উঠানামা করে কিনা। সাধারণ কৌতূহলী এমন প্রশ্নের জবাবে ফারিণ খুব চমত্কার করে বললেন। তার কথায়,‘দেখুন প্রত্যেকটা আর্টিস্টকে তার ইন্ডাস্ট্রির কথা চিন্তা করা জরুরি। অবশ্যই গুণী শিল্পীরা তা-ই করেন। এখন আমার একটা সিরিজ হিট করলো। সাথে সাথে আমি পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিলাম। এরপরে তো আমি কমাতে পারবো না। সবার তো দিন একরকম যায় না। তাই আমি মনে ইন্ডাস্ট্রি বুঝেই সেটা নির্ধারণ করাটা জরুরি। আর আমার হাতে এখনো অনেক সময় পড়ে আছে। তাই তাড়াহুড়ো নেই আমার কোনো।

আরও পড়ুন-

জায়েদ খানের পাগলামিটা ইদানীং বেড়ে গেছে: হিরো আলম

ফিতা কাটার বিনিময়ে ভাল একটা পারিশ্রমিক পাই: অপু বিশ্বাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *