মুসলিম নারীদের বিয়ের আগেই শারীরিক সম্পর্কের ‘অনুমতি’ চাইলেন ডেনমার্কের মন্ত্রী

নজর২৪ ডেস্ক- বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডেনমার্কের ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেটিয়েস টেসফায়ে। মুসলিম নারীদের বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করাকে অধিকার হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে গতকাল বলা হয়, দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশ্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

 

ডেনমার্কের মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাদের সরাসরি ও জোর দিয়ে বলছি যে অন্য নারীদের মতো মুসলিম নারীদের এ ধরনের অধিকার রয়েছে। আমি শুনেছি বিয়ের রাতে র’ক্তপাত হবে কি না এ নিয়ে মুসলিম নারীরা শঙ্কিত থাকেন কারণ তাদের নিজেদেরকে কুমারী প্রমাণ করতে হয়।’

 

মন্ত্রী মুসলিম নারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘জীবনটা তোমাদের, তাই পছন্দ তোমাদেরই। এখানে ইমামদের কথা শোনার কিছু নেই।’ মুসলিম নারীরা কী করবে তা ইমামদের সিদ্ধান্তে হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

তবে মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্যকে ভালোভাবে নেয়নি মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা।

 

তার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ২২ বছর বয়স্ক ডেনমার্কের কাউন্সিলর সদস্য হেদিয়া তামিজ বলেন, তার মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি হয়ত সমস্যা সমাধান করতে চাইছেন। তবে যে প্রক্রিয়ায় তিনি এটি চাইছেন, সেটি মোটেই বাস্তবসম্মত নয়।

 

দেশটির মন্ত্রীর মুসলিম নারীদের বিষয়ে এসব মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সেখানকার সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক উপদেষ্টা হালিমা আব্বাসী আল জাজিরাকে বলেন, মুসলিম নারীদের বিষয়ে কারো মন্তব্য কাম্য নয়। যৌন সম্পর্কের স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিতান্তই ব্যক্তিগত এখতিয়ার।

 

মাত্তিয়াস তেসফি সম্প্রতি টার্গেট করে মুসলিম নারীদের নিয়ে মন্তব্য করছেন। মূলত গত ১৪ নভেম্বর জাতিগত সংখ্যালঘু নারীদের নিয়ে আয়োজিত এক ক্যাম্পেইনে যোগ দেওয়ার পর থেকে তার এসব বিতর্কিত মন্তব্য শুরু হয়। সেখানে তিনি বলেছিলেন, নিজেদের বিবাহ নিয়ে মুসলিম নারীরা কার্যত অদৃশ্য জেলে বন্দি থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *