একে অপরকে ভালোবাসা, প্রেম, পরে বিয়ে করে সুখে সংসার করছেন নব্বইয়ের দশকের সেরা জুটি শাবনাজ-নাঈম। টানা অভিনয় করতে গিয়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। বিচ্ছেদের স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ভালোবাসার অনবদ্য এক গল্প লিখে চলেছেন। পরিণত হয়েছেন শোবিজের অন্যতম আদর্শ দম্পতিতে।
৫ অক্টোবর নাঈম-শাবনাজ তাদের বিবাহিত জীবনের ২৯ বছর পেরিয়ে ৩০ বছরে পা রেখেছেন। সুখে-ভালোবাসায় পথচলার তিন দশক শুরু হলো দুজনের। একেবারেই পারিবারিকভাবে দিনটি উদযাপন করেছেন তারা।
বিবাহিত ও চলচ্চিত্র জীবন প্রসঙ্গে নাঈম-শাবনাজ অন্তর্জালে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্, কত দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া আর মান অভিমানের পালা শেষ করে তিন দশক পার করে দিলাম। আমরা আরো দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া করতে চাই। জীবনের বাকি সময়গুলোতেও আমরা এভাবেই ভালবেসে যেতে চাই।’
নাঈম-শাবনাজ কেউই আর সিনেমায় নিয়মিত নন। তাদের মিস করেন ভক্তরা। এখনও তাদের সিনেমার পর্দায় দেখার জন্য প্রতিনিয়ত দর্শক আগ্রহ প্রকাশ করেন। জীবন চলার পথে কখনও কোথাও দর্শকের মুখোমুখি হলে দর্শকের অনুরোধ থাকে তারা যেন আবারও সিনেমায় ফেরেন। দর্শকের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার মাঝে নিজেদের প্রতিনিয়তই নতুন করে আবিষ্কার করেন এ দম্পতি।
১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ মুক্তি পায়। সিনেমাতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে নাঈম-শাবনাজ জুটির অভিষেক হয়। শফিউল আলম পরিচালিত ‘বিষের বাঁশি’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়েই নাঈম ও শাবনাজের প্রেমের সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর বিয়ে করেন তারা।
নাঈম-শাবনাজ জুটি দর্শকদের বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তাদের অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- ‘দিল’, ‘সোনিয়া’, ‘চোখে চোখে’, ‘বিষের বাঁশি’’, ‘অনুতপ্ত’, ‘টাকার অহংকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘জিদ’।
সবশেষ ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ সিনেমায় জুটি হয়ে অভিনয় করেছিলেন তারা। নাঈম সর্বশেষ ‘মেয়েরাও মাস্তান’ এবং শাবনাজ সর্বশেষ ‘ডাক্তার বাড়ি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। আপাতত সিনেমায় ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। দু’জনই এখন বর্তমান জীবন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছন। ২৯ বছরের সংসার জীবনে দু’জনই তাদের দুই সন্তান নামিরা ও মাহাদিয়া।
