সর্বশেষ সংবাদ

পাসপোর্ট-টিকিট ছাড়াই বিমানে শিশু: ১০ জনকে প্রত্যাহার

ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১৪ স্তরের নিরাপত্তা ডিঙিয়ে পাসপোর্ট, টিকিট, বোর্ডিং পাস ছাড়া বিমানে শিশু ওঠার ঘটনায় দায়িত্বরত ১০ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান।

মফিদুর রাহমান বলেন, নির্দিষ্ট কাগজপত্র ছাড়া ফ্লাইটে ওঠা, এটা একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা। যারা এ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে৷ এ ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষনীয়, তদন্ত শুরু হয়েছে তবে ইচ্ছাকৃত হয়নি।

বেবিচক চেয়ারম্যান আরও বলেন, নিরাপত্তার জন্য এটা হুমকি, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের যথেষ্ট গাফিলতি আছে। দায়িত্বে থাকা আনসার, বিমান, এপিবিএনসহ সব সংস্থার ১০ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে৷

ওই শিশুর নাম জুনাইদ মোল্লা- বয়স আনুমানিক ১২ বছর। গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার বরইহাটি গ্রামের বাঁশবাড়িয়ায় তার বাড়ি। বাবার নাম ইমরান মোল্লা, মায়ের নাম জেসমিন আক্তার। জানা যায়, শিশুটি তিন দিন আগে গোপালগঞ্জের একটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে এসেছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব স্তরের নিরাপত্তা ডিঙিয়ে পাসপোর্ট, টিকিট, বোর্ডিং পাশ ছাড়া এক শিশু নির্বিঘ্নে কুয়েত এয়ারওয়েজের এক ফ্লাইটে উঠে যায়। এ ঘটনায় হতভম্ব ওই ফ্লাইটের পাইলট, ক্রুসহ সব যাত্রী। পুরো ফ্লাইটটির ৩৩০ আসনে যাত্রী পূর্ণ থাকায় কেবিন ক্রুরা ওই শিশুটিকে কোনো সিট দিতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে আসন ছাড়া কীভাবে শিশুটি ফ্লাইটে উঠল এ নিয়ে শুরু হয় দৌড়ঝাপ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্তরের নিরাপত্তাকর্মীরা ছুটে আসেন ফ্লাইটে। এ ঘটনায় কুয়েত এয়ারওয়েজের কেইউ-২৮৪ ফ্লাইটটি প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে ঢাকা ত্যাগ করে।

এই ঘটনা বিমানবন্দরের গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও হতবাক করে দিয়েছে। পরে ওইদিন দুপুরে বিমানবন্দরের ডিউটি সিকিউরিটি অফিসার (ডিএসও) খুরশিদা খাতুন বিমানবন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর শিশুটির অভিভাবকদের থানায় ডেকে পাঠানো হয়।

গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, একটি শিশু কীভাবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের চোখ এড়িয়ে বিমানে উঠতে পারল তা একটি বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটি একজন বয়স্ক দম্পতির মাঝখানে ছিল, যা দেখে মনে হয় সে ওই পরিবারেরই সদস্য এবং এভাবেই ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যায়।

এমনটা হওয়ার কথা ছিল না, যোগ করেন তিনি।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই ঘটনায় আমি অভিবাসন নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত সবাইকে সাময়িক বরখাস্ত করতে বলেছি এবং কীভাবে সব কিছু ঘটেছে তা খুঁজে দেখতে তদন্ত শুরু করতে বলেছি।

আরও পড়ুন

সিনেমায় সরকারি অনুদান বন্ধ করে দেওয়া ভালো: ডিপজল

দেশের চলচ্চিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে প্রতিবছর অনুদান দিয়ে থাকে সরকার। অনুদানে নির্মিত সিনেমাগুলো নিয়ে আলোচনার চেয়ে সমালোচনাই বেশি দেখা যায়। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি...

চিন্তাও করিনি আমি মাত্র ১৬ ভোটে হারবো: নিপুণ

দীর্ঘরাত অপেক্ষা শেষে কাকডাকা ভোরে পাওয়া গেলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ফলাফল। শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে...

সেরা পঠিত