ঢাকা-১৭ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম বলেছেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আগেও একা ছিলাম, এখনো একা আছি। আমি কোনো দলেই যাব না, প্রয়োজনে নিজেই রাজনৈতিক দল তৈরি করব।’
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর আশকোনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কথা বলেন।
নিজের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশকে দায়ী করে হিরো আলম বলেন, ‘আমার জীবনের নিরাপত্তাহীনতার জন্য পুলিশ প্রশাসন দায়ী। যেদিন আমার ওপর হামলা করা হয়, সেদিন যদি পুলিশ আমাকে গাড়িতে তুলে দিত, তাহলে হামলার হাত থেকে আমি রক্ষা পেতাম।’
নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে হিরো আলম বলেন, ‘আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে ৮ থেকে ১০ জন আমার মহানগর প্রজেক্টের অফিসে এসে নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। নিরাপত্তাকর্মীকে তারা বলেছেন, হিরো আলমকে ডাক দে, সে কোথায় থেকে লাইভ করছে, ওকে ডাক দে, ওর খবর আছে।’
ঢাকা–১৭ আসনের উপনির্বাচনে পরাজিত এই প্রার্থী বলেন, ‘আমার জীবনের কোনো নিরাপত্তা খুঁজে পাই না। কারণ আমি হাসপাতালে, তারা অফিসে গিয়ে হামলা করার চিন্তা ভাবনা করছে। দেশবাসীর কাছে বলতে চাই, আমি আমার জীবন নিয়ে খুবই আশঙ্কার মধ্যে আছি।’
শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেদিন বাড়িতে যাওয়ার পর দেখি সারা শরীরে দাগ। বিভিন্ন জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে আছে। আপাতত চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়েছি।’
হিরো আলমের ওপর ১৭ জুলাই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, ‘ব্যাপারটাকে আমি ভালো চোখেই দেখছি। আমার কথা হলো, আমাকে যদি কারও পছন্দ না হয়, তাহলে ভোট দেবেন না। কিন্তু আমার গায়ে হাত তোলার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।’
প্রসঙ্গত, সোমবার ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের শেষের দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল ভোটকেন্দ্রের সামনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলা চালায়। মারধর থেকে বাঁচতে একপর্যায়ে হিরো আলম দৌড়ে পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা এ সময় তাকে পেছন থেকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে তিনি বনানীর ২৩ নম্বর সড়কে গিয়ে একটি রিকশায় ওঠেন। পরে গাড়িতে করে চলে যান।
হামলার পর সাংবাদিকদের হিরো আলম বলেন, দেশে যে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই, সেটি আমি বিদেশিদের কাছে তুলে ধরব। পাশাপাশি আমার ওপর হামলার বিচার চেয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকান অ্যাম্বাসিকে অভিযোগ দেব। শুধু তাই নয়, যেখানে যেখানে অভিযোগ জানাতে হবে, আমি প্রতিটা জায়গায় চিঠি দেব।
এই আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মৃত্যুতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ৫ মাস আগে এ উপনির্বাচন হয়।
উপনির্বাচনে ২৮ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ এ আরাফাত। একতারা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম পেয়েছেন ৫ হাজার ৬০৯ ভোট। যদিও পরে তার ওপর হামলা ও এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়াসহ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন হিরো আলম। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিকদার আনিসুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন প্রায় ১৫০০ ভোট।
