Home ফিচার বাঁশের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ব্রিজ!

বাঁশের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ব্রিজ!

0
84

নজর২৪, মেহেরপুর: প্রায় ৩০ বছর আগে ছয় গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করা হয় সেতুটি। শুরুতে যানবাহনের তেমন চাপ না থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে কখনো সংস্কার করা হয়নি ৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটি।

 

ফলে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার তেরাইল-দেবিপুর সড়কের সেউটিয়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন চলাচলের একেবারেই অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। দেবে গেছে সেতুর বিভিন্ন অংশ, ভেঙে পড়েছে ছাদের একপাশ।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে সেতু নির্মাণ করা হয়ে। বর্তমানে সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী। তারপরও এর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রা বাঁশের খুঁটি দিয়ে সেতুটি ভেঙে পড়া থেকে রক্ষ করেছেন।

 

তেরাইল গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ হোসেন, জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ও মান্নান জানান, নির্মাণের পর সাধারণ মানুষ শুধু খাল পাড়ি দিতেই সেতুটি ব্যবহার করতেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে গাংনী উপজেলা শহর ও ছয়টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সেতু। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কালভার্টটির ওপর যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। তিন বছর আগে এটি ভেঙে গেছে। এরপরও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এখন সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। পাঁচ মিটার দীর্ঘ এ সেতু বর্তমান সড়কের সঙ্গেও বেমানান।

 

দেবীপুর গ্রামের বৃদ্ধ রাশিদুল জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে সেতুটি নির্মিত হয়। নির্মাণকালে মাটি ধসে দুই নির্মাণশ্রমিক মারা যায়। বর্তমানে এর ব্যবহার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

 

বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, সেতুটি নির্মাণের পর কখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রকৌশল অফিসে যোগাযোগ করা হয়েছে। কোনো কাজ হয়নি।

 

তিনি বলেন, ‘স্থানীয়দের সহযোগিতায় আপাতত বাঁশের খুঁটি দিয়ে সেতুটি রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে মাঠ থেকে কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলছেন। এলাকার লোকজনও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।’

 

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘সেতুটি প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম। দেবে গেছে একটি অংশ। ছয় থেকে সাত মাস আগে এর ছাদের এক কোনা ভেঙে পড়ে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’

 

মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকন জানান, সরেজমিন গিয়ে সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই টেন্ডার হবে।

 

গাংনী উপজেলার প্রকৌশলী গোলাপ আলী শেখ জানান, সেতুটি রিপ্লেসমেন্ট করার জন্য আমরা অনেক দিন ধরেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here