মাল্টিপ্লেক্সে শাকিবের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে পূজা চেরি

গত বছরের ঈদ-উল-ফিতরে সহশিল্পী হিসেবে হাজির হয়েছিলেন শাকিব খান ও পূজা চেরী। “গলুই” সিনেমায় জুটি বাঁধার মাধ্যমে একই পর্দায় দেখা গিয়েছিল তাদের। বছর না ঘুরতেই পরিস্থিতির ফেরে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে গেলেন শাকিব ও পূজা।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঢালিউডে ঈদ মানেই শাকিব খানের চলচ্চিত্র। হাতেগোনা ব্যতিক্রম বাদ দিলে প্রতি বছরের ঈদেই শাকিবের একাধিক সিনেমা মুক্তি পেয়ে থাকে। এমনকি শাকিবের সিনেমার সঙ্গে পাল্লা দিতে সচরাচর ঈদে অন্য কোনো সিনেমাও মুক্তি দেওয়া হতো না।

তবে বিগত কয়েক বছর ধরে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসা শুরু হয়েছে। আর এবারের ঈদ-উল-ফিতরে তো ঢালিউডে রীতিমতো অবাক করা কাণ্ডই ঘটে গেছে। কারণ, ঈদে শাকিবের “লিডার, আমিই বাংলাদেশ” সিনেমার সঙ্গে আরও ৭টি ছবি মুক্তি পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পূজা চেরী অভিনীত “জ্বীন”ও।

শাকিবের জনপ্রিয়তার সুবাদে “লিডার, আমিই বাংলাদেশ” সিনেমা সর্বাধিক ১০০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। অন্যদিকে, পূজার অভিনীত সিনেমা “জ্বীন” তুলমামূলক অনেক কমসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। ফলে স্বাভাবিক পরিসংখ্যানে শাকিবের “লিডার, আমিই বাংলাদেশ” এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু পূজার “জ্বীন”ও ছেড়ে কথা বলেননি। আধুনিক সিনে থিয়েটার অর্থাৎ মাল্টিপ্লেক্সে ঢালিউড সুপারস্টারকে হারিয়ে দিয়েছেন পূজা।

দেশের জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্সগুলোর শো-সমাচারের ভিত্তিতে করা এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।

ঈদ উপলক্ষে স্টার সিনেপ্লেক্স চেইনের ৫টি শাখায় সমান ১০টি শো নিয়ে মুক্তি পায় “লিডার, আমিই বাংলাদেশ” এবং “জ্বীন”। কিন্তু প্রথম সপ্তাহ শেষে দর্শক চাহিদার দিক দিয়ে অর্থাৎ শো সংখ্যায় দ্বিতীয় সপ্তাহে শাকিবের চেয়ে পূজা বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছেন। স্টার সিনেপ্লেক্সের দ্বিতীয় সপ্তাহের শো টাইম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, “লিডার, আমিই বাংলাদেশ” যেখানে সর্বসাকুল্যে ৫টি শো পেয়েছে, সেখানে “জ্বীন” দখল করেছে ১৯টি শো।

স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “দর্শক আগ্রহের কারণেই আমরা ‘জ্বীন’র শো সংখ্যা বাড়িয়েছি। আসলে বাংলা ভাষায় তো ভৌতিক ছবি হয় না। এ কারণে ছবিটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ বেশি। তাছাড়া আমাদের এখানে হলিউডের হরর ছবিগুলোও বেশ ভালো সাড়া পায়। মানে এই ধাঁচের ছবির প্রতি কিছু দর্শকের আকর্ষণ রয়েছে। তো তারাও ‘জ্বীন’ দেখতে আসছেন। সবমিলিয়ে ছবিটা ভালো যাচ্ছে।”

ব্যতিক্রম নয় নগরীর আরেক জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স ব্লকবাস্টার সিনেমাসও। ঈদের দিন ৪টি শো নিয়ে মুক্তি পায় “লিডার, আমিই বাংলাদেশ”। দ্বিতীয় সপ্তাহেও সেই সংখ্যা আর বাড়েনি। অন্যদিকে, “জ্বীন” মাত্র দুটি শো নিয়ে মাঠে নামলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে যা দ্বিগুণ হয়ে ৪টিতে পৌঁছেছে। হলসংখ্যার অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসেও।

মাল্টিপ্লেক্সে পূজার কাছে ধরাশায়ী হলেও সিঙ্গেল স্ক্রিনে অবশ্য শাকিব খান আগের মতোই অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে তার “লিডার, আমিই বাংলাদেশ” ঘিরে দর্শকের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, যার বদৌলতে দুটি বেড়ে শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) থেকে সিনেমাটি দেশের ১০২টি প্রেক্ষগৃহে চলছে।

ঢালিউডে ঈদে শাকিব খানের সিনেমার সঙ্গে পাল্লা দিতে বেশ কয়েকটি ছবি মুক্তি পেলেও খুব কম তারকার সিনেমাই শাকিবের ছবিকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। সেই ক্ষুদ্র তালিকায় এবার পূজা চেরী যোগ হন নাকি, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *