যুদ্ধ থেমে শান্তি ফিরুক পৃথিবীতে-এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’। নতুন বছর শান্তির বারি নিয়ে আসুক পৃথিবীর জন্য, যুদ্ধ বন্ধ হয়ে শান্তি ফিরুক এমন কামনায় শেষ হলো এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা।
শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। শাহবাগ মোড় হয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে এটি শেষ হয়। এতে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
পিছিয়ে ছিলেন না বিদেশিরাও। বাঙালি সাজগোজে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ভাঙা ভাঙা বাংলায় সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে ফ্রান্সের নাগরিক জনসন বলেন, শুভ নববর্ষ, ধন্যবাদ বাংলাদেশ। অনেক ইনজয় করছি। খুব ভালো লাগছে।
শোভাযাত্রার আগে সরেজমিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা যায়, এ আয়োজনকে সফল করতে ভোর থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন আয়োজকরা। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরুর জন্য অপেক্ষা করেন বিভিন্ন নানা বয়সী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন রমজান মাস হওয়ায় এবারের পহেলা বৈশাখের সকালে পান্তা-ইলিশের আয়োজন হয়নি। আর প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে শিশু ও বয়স্কদের উপস্থিতি ছিল কিছুটা কম।
তবে পুরোনো গ্লানি, হতাশা আর মলিনতাকে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় নতুন বছর বরণ করতে কোনো অনীহা ছিল না তরুণদের মাঝে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হওয়ার আগে থেকেই তাদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তন চত্বর, দোয়েল চত্বরে তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এছাড়া শোভাযাত্রায় অংশ নিতে প্রতি বছরের ন্যায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উপস্থিত হয়েছেন।
