দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি ছাপিয়ে স্বপ্ন যখন বিশ্বমঞ্চে, তখনই জোর একটা ধাক্কা খেলেন সাফজয়ী নারী ফুটবলাররা। টাকার অভাবে প্যারিস অলিম্পিক ফুটবল বাছাই পর্বে খেলা হচ্ছে না সাবিনা-কৃষ্ণাদের। ৫ এপ্রিল থেকে মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাইয়ে এশিয়ান পর্বে ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক মিয়ানমার, ইরান ও মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। এই সফরের জন্য গেল কয়েক মাস ক্যাম্পে থেকে দু’বেলা অনুশীলনও করেছেন তাঁরা। কিন্তু দুদিন আগে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মিয়ানমার যাওয়া হবে না তাঁদের।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ জানিয়েছেন, আর্থিক কারণে আমরা সফরটি করতে পারছি না। তাই বাফুফের এমন কর্মকান্ডে হতাশা প্রকাশ করেছেন সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জনপ্রিয় মুখ ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
সাবিনা-কৃষ্ণা রানীদের জন্য নিজের একাডেমির বাস ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করে তাদের পাশে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘বাংলাদেশ তো দেউলিয়া হয়নি। দেউলিয়া যারা হয়েছে পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মতো দেশ তারাও কিন্তু দল পাঠাচ্ছে বিদেশে খেলার জন্য। আর আমার দেশ যাবে বাছাই পর্ব খেলতে এবং বাছাইতে যদি তারা জিতে, তারা ফ্রান্সে অলম্পিক খেলতে ২০২৪ যাবে। আর এখানে আমার ফুটবল ফেডারেশন বলছে অর্থের অভাবে যেতে পারবে না মেয়েরা। অথচ এই ফুটবল ফেডারশন ১০০ কোটি টাকা খরচ করে মেসির আর্জেন্টিনাকে আনার কথা বলছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফুটবল ফেডারশনকে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলে তিনি কখনও এদেরকে ফেলে দিবেন না। তারপরও যদি কেউ খবর না দেয় আমি আপনাদেরকে দায়িত্ব নিয়ে বলছি- একটা বাস আছে (ব্যারিস্টার সুমন একাডেমি), আমার ফুটবল একাডেমির জন্য ছয় মাস আগে কিনেছি ৪৯ লাখ দিয়ে। আমি এখন যদি বিক্রি করতে চাই ৪০ লাখ টাকা পাবো, প্রয়োজনে এখন ৪০ লাখ দিচ্ছি তারপরও মেয়েদেরকে পাঠান। আমার একডেমি দুই দিন পর নাও থাকতে পারে কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল থাকবে।’
আরও যোগ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানায় এবং ক্রিয়া মন্ত্রনালয় মাননীয় এমপির কাছেও। এখনও পাঁচ দিন সময় আছে এদেরকে মায়ানমারে বাছাই পর্ব খেলতে পাঠানোর। কারণ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা দেউলিয়া হয়ে গেলেও বিদেশে খেলতে পাঠাচ্ছে। আমরা দেউলিয়া হবার আগেই আমাদের মেয়েরা খেলতে পারবে না অর্থের অভাবে। এটা আমার বিশ্বাস হয় না।’
