হিরো আলমের নাম বলেছি শুধু উদাহরণ হিসেবে: মামুনুর রশীদ

এখন রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে। এর মধ্যদিয়েই হিরো আলমের উত্থান হয়েছে- সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছিলেন বরেণ্য নাট্যকার, অভিনেতা ও সংগঠক মামুনুর রশীদ। যা নিয়ে নেট দুনিয়ায় রীতিমতো তোলপাড়। এমন মন্তব্যের জন্য নাট্যাঙ্গনের বেশির ভাগ মানুষের কাছে বাহবা পেয়েছেন মামুনুর রশীদ।

তবে কিছু মানুষ কড়া সমালোচনা করছেন। হিরো আলম নিজেও ফেসবুকে লাইভে এসে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে, হিরো আলম তার প্রতীকী রূপ- আলোচনা-বিতর্কের বিপরীতে এমনটাই বলছেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। বলেছি সামগ্রিকভাবে।

এদিকে হিরো আলম লাইভে এসে বলেছেন এ বক্তব্যের জন্য যদি তিনি আত্মহত্যা করেন তবে তার দায়ভার মামুনুর রশীদকে নিতে হবে।

এ বিষয়ে বরেণ্য এই নাট্যজন বলেন, এটা খুব শিশুসুলভ কথা। এর কোনো মানে হয় না। আমি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছি এটা ঠিক নয়। আমি বলেছি রুচির দুর্ভিক্ষ। একটা দেশে দুর্ভিক্ষ কি একজনকে দিয়ে হয়! হিরো আলমের নাম বলেছি শুধু উদাহরণ হিসেবে। উদাহরণটা কতোটা সঠিক সেটা যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছেন তারা দয়া করে তার কাজগুলো দেখুন, আমার বিশ্বাস তারা কেউ এসব কাজ সমর্থন করবেন না।

মামুনুর রশীদ আরও বলেন, রুচির দুর্ভিক্ষের যারা কারণ তাদের সঙ্গে আমি নিজেকে জড়াবো না। কোনো মননশীল মানুষ সেটা করবে না।

হিরো আলম কারও ক্ষতি না করে নিজের পয়সায় কাজ করছেন। নিজের চেষ্টায় এখানে এসেছেন বলে মনে করেন তিনি। তার প্রশ্ন তাহলে কেন আপনি তাকে নিয়ে কথা বলবেন? হেসে মামুনুর রশীদ বলেন, আমি যে দুর্ভিক্ষের কথা বলছি সেটা ৬০ বছর আগে তুলেছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তিনি বলেছিলেন, রুচির দুর্ভিক্ষ চলছে, কিন্তু আমি এই দুর্ভিক্ষের ছবি আঁকতে পারছি না। এ ছবি আঁকা যায় না। এখনকার দুর্ভিক্ষটা সেই জয়নুল আবেদিনের মতো নয়, কারণ এখন দৃশ্যমান।

সম্প্রতি অভিনয় শিল্পী সংঘের অনুষ্ঠানে মামুনুর রশীদ বলেন,, ‘আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে গেছি। সেখান থেকেই হিরো আলমের মতো একজন মানুষের উত্থান হয়েছে। এই উত্থান কুরুচি, কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতির উত্থান। এটা যেমন রাজনৈতিক সমস্যা, তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক সমস্যাও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *