আজ রোজা রেখেছেন শরীয়তপুরের ৪০ গ্রামের মানুষ

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের ছয় উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মুসলমান বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) থেকে রোজা শুরু করেছেন।

বুধবার (২২ মার্চ) রাতে ওইসব এলাকার মুসল্লিরা তারাবির নামাজ পড়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে সেহরি খেয়ে রোজা শুরু করেন তারা।

এলাকাবাসী জানান, শরীয়তপুরের ছয় উপজেলার ৪০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ১৯২৮ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা থেকে শুরু করে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসব পালন করে আসছেন।

জানা যায়, সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬৯ দেশে বুধবার চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ ওইসব দেশে রোজা রাখছেন মুসলমানরা। তাই তাদের সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের শাহ সুরেশ্বরীর (রা.) অনুসারীরা রোজা রেখেছেন।

সুরেশ্বর দরবার শরিফের হুজুর কেবলার পক্ষে সাইয়্যেদ শাহ দিদির নূরী সুরেশ্বরী বলেন, আমরা শুধু ঈদ না সবরকম ধর্মীয় উৎসব সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পালন করি। বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৪০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান রোজা রেখেছেন। আমরা আগামীতেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করবো।

সুরেশ্বর পীরের ভক্তদের মতে, ইসলাম ধর্মের সবকিছুই মক্কা শরীফ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তাছাড়া মক্কা শরীফ থেকে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘণ্টা। তাই মক্কাবাসীসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানরা যেদিন রোজা রাখেন তারাও সেদিন থেকে রোজা করে থাকেন। তারা মনে করেন, ৩ ঘণ্টা সময়ের পার্থক্যের জন্য ২৪ ঘণ্টা পার্থক্য মানা যুক্তিযুক্ত নয়।

উল্লেখ্য, সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হজরত জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরী (রাঃ)-এর অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *