এফডিসি এখন পরিত্যক্ত পাটকলের মতো হয়ে গেছে: শাকিব খান

শাকিব খানকে নিয়ে নতুন সিনেমার ঘোষণাই কেবল দেওয়া হচ্ছে যেনো। ঘোষিত সেইসব ছবির শুটিং ফ্লোরে আর গড়াচ্ছে না। তাই ক্রমেই ঘোষণা দিয়ে না হওয়া সিনেমার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে দেশের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানের ঝুলিতে। ‘রাজকুমার’, ‘প্রিয়তমা’, ‘কবি’, ‘প্রেমিক’ সিনেমার পর এবার এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরও একটি ছবি। সেটি‘শের খান’।

শাকিব নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্ম ও কপ ক্রিয়েশনের ব্যানারে ‘শের খান’ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন গেল বছরের নভেম্বরে। একাধিকবার শুটিং ডেট পরির্বতন করে জানানো হয়েছিল মার্চে সিনেমাটির শুট শুরু হবে। কিন্তু সূত্র বলছে নানা কারণে শের খানের’ শুটিং মার্চে করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে শাকিব খান বলেন, অনেক ছবির কাজই নানা কারণে নানা সময় পিছিয়ে যায়। এটি সব ক্ষেত্রেই হয়। আসলে বেশির ভাগ সময় নির্মাতার সুবিধা-অসুবিধার জন্য এমনটি হয়ে থাকে। নির্মাতা তাঁর সুবিধামতো সময়ে কাজ শুরু করবেন বলে জানি এবং আশা করছি।

তিনি বলেন, আমি আসলে আর একটু সময় নিয়ে কাজ শুরু করতে চাই। কারণ এখন নির্মাণের জন্য নির্মাণ করলেই হবে না। সিনেমার মতো করেই সিনেমা নির্মাণ করতে হবে।

দেখুন, বলিউডের উদাহরণই যদি দিই, তাহলে বলতে হয় কয়েক বছর ধরেই হিন্দি ছবির খুব দুঃসময় চলছিল। কারণ সিনেমার মতো সিনেমা দর্শক পাচ্ছিল না বলে সেগুলো ব্যর্থ হয়েছে। যখনই ‘পাঠান’-এর মতো একটি হাই রেঞ্জের ছবি মুক্তি পেল তখনই তা বলিউডের ইতিহাস হয়ে গেল। হলিউডের কথাও যদি বলি তাহলে দেখুন করোনাকালের পর তাদের ছবিও মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু ‘নো টাইম টু ডাই’, ‘স্পাইডারম্যান’, ‘অ্যাভাটার’-এর মতো ছবি দিয়ে হলিউড আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের তামিল ছবির ক্ষেত্রেও আধুনিক নির্মাণশৈলীর কারণে ‘বাহুবলী’, ‘পুষ্পা’, ‘আরআরআর’সহ আরও কিছু ছবি ব্যবসায়িক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তাই আমি চাই না কোনোভা্ন্ডেব একটি সিনেমা নির্মাণ করতে। কারণ পৃথিবী এখন এতই ওপেন হয়ে গেছে যে, দর্শককে কোনোভাবে কিছু একটা বানিয়ে দিলেই তারা যে সেটি সাদরে গ্রহণ করে নেবে এই ধারণা ভুল। তাই আমি এখন একটু সময় নিয়ে সব ক্ষেত্রে নিজেকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিচ্ছি।

শাকিব খান বলেন, আমি সব সময়ই আশাবাদী। আমার বিশ্বাস এই সংকট অচিরেই কেটে যাবে। একটা সময় ছিল চলচ্চিত্রের মানুষ তখন ভালো কাজ ছাড়া আর কিছুই বুঝত না। কিন্তু হঠাৎ করে অনেকে কাজ বাদ দিয়ে সমিতিনির্ভর হয়ে পড়ল। এফডিসি হয়ে গেল চলচ্চিত্র নয়, সমিতিনির্ভর একটি প্রতিষ্ঠান। কিছু অযোগ্য লোকের কাছে সিনেমার পরিবর্তে সমিতি হয়ে গেল ধ্যান-জ্ঞান। সমিতির নির্বাচন, পিকনিক, ইফতার পার্টি নিয়ে তাদের যেভাবে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় সিনেমা নিয়ে তত নয়। এতে করে চলচ্চিত্রের বারোটা বেজেই চলেছে।

অন্যদিকে জরুরি ছিল এফডিসি থেকে সার্ভার সিস্টেমের মাধ্যমে ছবি প্রদর্শন করা, এফডিসিতে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজের ব্যবস্থা করা। এমন আরও অনেক আধুনিক কাজের কোনো ব্যবস্থা নেই এই সংস্থায়। ফলে এফডিসি চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে কীভাবে? এফডিসি এখন হয়ে গেছে পরিত্যক্ত পাটকলের মতো। এমন সব দুরবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই চলচ্চিত্রের সংকট নিশ্চিত কেটে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *