কাপড়ের সেলসম্যান থেকে হাজার কোটির মালিক ‘গোল্ডেন মনির

নজর২৪, ঢাকা- ১৯৯০ এর দশকে রাজধানীর গাউছিয়ায় একটি কাপড়ের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন মো. মনির হোসেন। এরপর শুরু করেন ক্রোকারিজের ব্যবসা। তারপর লাগেজ ব্যবসা অর্থাৎ ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে মালামাল আনতেন।

 

একপর‌্যায়ে জড়িয়ে পড়েন স্বর্ণ চোরাকারবারে। এরপর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অবৈধভাবে স্বর্ণ চোরাচালান, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি দখল করে এখন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক।

 

অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় গাড়ি ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী মনিরুল হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব।

 

রাতভর অভিযানের পর শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ অবৈধপথে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন গোল্ডেন মনির। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে তার স্বর্ণ চোরাকারবারের রুট ছিল ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ভারত। এসবই তিনি করেছেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। যেখানে তার নাম হয়ে যায় গোল্ডেন মনির।

 

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) শেষ রাত থেকে শনিবার (২১ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত মনিরকে তার মেরুল বাড্ডার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, ৬০০ ভরি স্বর্ণ (আট কেজি), ১০টি দেশের মুদ্রা ও এক কোটি নয় লাখ টাকাসহ আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

 

অভিযান শেষে কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২০ নভেম্বর) শেষ রাত থেকে মেরুল বাড্ডায় গোল্ডেন মনিরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি ও বিদেশি মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, তার বাসা থেকে ৬০০ ভরি (আট কেজি) সোনার গহনা, ১০টি দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় নয় লাখ টাকা। এছাড়া নগদ এক কোটি নয় লাখ টাকাও জব্দ করা হয়েছে।

 

গোল্ডেন মনির একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরা চালানকারী ও জমির দালাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বাড়ি থেকে অনুমোদনহীন দু’টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এছাড়া, তার গাড়ির শোরুম অটো কার সিলেকশন থেকে আরও তিনটি অনুমোদনহীন বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

 

‘ভূমিদস্যু’ গোল্ডেন মনির রাজউকের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিপুল সংখ্যক বাড়ি ও প্লট হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট, নিকুঞ্জ, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক প্লট ও বাড়ি রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে মনির ৩০টি স্থানে প্লট ও বাড়ির কথা স্বীকার করেছেন।

 

গোল্ডেন মনিরের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৫০ কোটি টাকারও বেশি। তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডি, অনুমোদনহীন গাড়ির জন্য বিআরটিএ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করবে র‌্যাব, জানান তিনি।

 

এদিকে, বাসা থেকে অস্ত্র, মাদক ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধারের ঘটনায় গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় র‌্যাব পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *