শ্রোতাপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী মনির খান ২০১৮ সালে ঘোষণা দিয়েই রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। আর কোনদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসবেন না। গান নিয়েই মানুষের পাশে থাকতে চান।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমনটিই জানিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অল্পতেই অভিমান করে। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকার কারণে যারা আমার গান শুনতেন সাধারণ মানুষ তারা আমার উপর একটু মনক্ষুন্ন হয়েছিলো। ভক্তরা আমাকে বিষয়টি একাধিকবার জানানোর পর আমি রাজনীতি ছেড়ে আমার শান্তির জায়গা গানের দুনিয়ায় ফিরে এসেছি।
মনির খান বলেন, রাজনীতিতে ফেরার কোনো সম্ভবনা নাই। কারণ গানের মধ্যেই শান্তি, গানের মধ্যে মানুষের ভালোবাসা সব পাচ্ছি। গানের মানুষ আমাকে একদম আপন করে নিয়েছে তাই আমি আর রাজনীতিতে ফিরবো না। গানের মধ্যে থাকার ইচ্ছে গানের মধ্যে থাকবো।
বিনোদনের মানুষদের রাজনীতিতে অন্তভুক্তি বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিনোদন একেক জন একেক ভাবে উপভোগ করেন। রাজনীতির মাঠে এক বিনোদন আবার আমাদের সংস্কৃতি জগতে এক ধরণের বিনোদন কে কিভাবে নিবে সেটাই আসলে বড় ব্যাপার। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে প্রথমে দেখতে হবে সবাইতো আমাদের মানুষ। বিনোদনের মানুষ রাজনীতি করতে পারবে না বিষয়টা একদম ঠিক নয়।
‘অঞ্জনা’খ্যাত এই শিল্পী বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যারা সংস্কৃতি জগতে রয়েছে তাদের অধিকাংশ রাজনীতির সাথে জড়িত। তারা কিন্তু কোনো সমস্যা ফেস করছে না। তারা দেশের জন্য কাজও করেছে পাশাপাশি অভিনয়ও করছে। একমাত্র ব্যাতিক্রম বাংলাদেশ। একদল করলে আরেক দলের লোক দেখতে পারে না। এটা আসলে নিচু মানসিকতা। এটা অন্য কোনো দেশের নাই।
মনির খান বলেন, রাজনীতি মানে গণতন্ত্র সবার ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে এটাই সাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। আপনি বিরোধী দলে থাকলে সরকারি দল গলা চিপে ধরবে। আসলে এটা আমাদের পরিবর্তন করতে হবে। দেখেন আমাদের মমতাজ আপা, আসাদুজ্জামান নূর ভাই রাজনীতি করছে। তারাতো রাজনীতির লোক তাতে কি কিছু হয়েছে। আমি মনে করি বিনোদনের লোক হলেও তার রাজনীতি করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
