ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইবিবিএল) পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইবিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা।
চট্টগ্রামের জেএমসি বিল্ডার্সের পক্ষে ২০১৭ সালের জুনে মো. সাহাবুদ্দিন ব্যাংকটির পরিচালক নিযুক্ত হন এবং এরপর তিনি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। এত দিন একই পদে বহাল ছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি ব্যাংকটি থেকে পদত্যাগ করেন।
আইবিবিএলের ওয়েবসাইটে গতকাল রোববার পর্যন্ত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের নাম থাকলেও আজ সোমবার তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যানের বাইরে এখন পরিচালক রয়েছেন ১৬ জন।
ব্যাংকটিতে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ দুটি—মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ফলে এখন একজন বহাল রয়েছেন। তিনি হলেন বিদেশি প্রতিনিধি ইউসুফ আব্দুল্লাহ আল রাজী।
উল্লেখ্য, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
মনোনয়পত্র বৈধ হওয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একক এ প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে নির্বাচনী কর্তার কাযালয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। সোমবারই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য এই পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালের ২০ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন মো. আবদুল হামিদ। একই বছরের ২২শে এপ্রিল তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২৪শে এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্বভার গ্রহণ করেন মো. আবদুল হামিদ। সেই অনুযায়ী, তার ৫ বছরের মেয়াদ আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার। বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী ছিল না।
মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনের জন্য সংসদের সভা বা ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
