শক্তিশালী ভূমিকম্প: তুরস্ক-সিরিয়ায় মৃত্যু বেড়ে প্রায় দুই হাজার

ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছে তুরস্ক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। ধসে পড়েছে হাজার হাজার ভবন। ক্ষণে ক্ষণে উদ্ধার হচ্ছে মৃতদেহ ও আহতদের। নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারে পৌঁছেছে। এই সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

হাসপাতাল ও ধসে পড়া ভবনগুলোর সামনে স্বজনদের খুঁজতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। সোমবার ভোররাতের এই ভূমিকম্পের সময় বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন।

তুরস্ক ও সিরিয়া উভয় দেশেই বিপুল ক্ষতি হয়েছে। এখনও ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে রয়েছেন বহু মানুষ। তাদেরকে উদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। সাধারণ মানুষও এতে হাত লাগিয়েছেন।

কোনও কোনও পরিবারে সকল সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। শোকপালন করবেন বলেও আত্মীয়-পরিজন নেই অনেকের। যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুমান করে বলেছে যে, এই ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা দশ হাজার ছাড়াতে পারে। তুরস্ক প্রশাসন জানিয়েছে ভূমিকম্পে প্রায় তিন হাজার ভবন ধসে পড়েছে।

তুরস্কের কাহরামানমারাস, হাতায়, ওসমানিয়ে, গাজিয়ানটেপ, সানলিউরফা, দিয়ারবাকির, মালতায়া এবং আদানাসহ বিভিন্ন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সিরায়ার আলেপ্পো, হামা এবং লাত্তাকিয়াসহ কয়েকটি অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তুরস্ক ও সিরিয়া উভয় দেশ দুর্যোগ ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য কামনা করেছে তুরস্ক। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্ধারকাজে সহযোগিতার জন্য বাহিনী প্রেরণ করেছে। সেনাবাহিনী নামিয়েছে তুরস্ক।

সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তের গাজিয়ানটেপ প্রদেশের কাহরামানমারাস শহরে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটির ঢেউ গিয়ে লাগে প্রতিবেশী সিরিয়ায়।

প্রথমটির ৯ ঘণ্টার মাথায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে তুরস্কে। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৪ মিনিটের দিকে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এটি আঘাত হানে। এতে নতুন করে আরও কিছু ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। প্রথম ভূমিকম্পটি সিরিয়ার বাইরের লেবানন, ইসরায়েল ও সাইপ্রাসেও অনুভূত হয়েছে।

তুরস্ক ও সিরিয়ায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত উদ্ধার করা হয়েছে আরও কয়েক হাজার। নিহত ও আহতের সংখ্যা মিনিটে মিনিটে বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *