আওয়ামী লীগ সরকার হিরো আলমের কাছেও সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) সেখানেও রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে। হিরো আলম প্রমাণ করেছেন আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।
শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। এটা প্রমাণিত হয়েছে আবার যেসব উপনির্বাচন হয়ে গেল, সেই উপনির্বাচনগুলোতে। আমি সে বিষয়ে যাব না। আমি শুধু বলতে চাই, একটি কথা। হিরো আলম (বগুড়া উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী) আজকে প্রমাণ করেছে যে, আওয়ামী লীগ এই হিরো আলমের কাছেও কতটা অসহায়। তাদের (আওয়ামী লীগ) রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জিততে হয় ৬-৭শ ভোটে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে হিরো আলমকে পরাজিত করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন ব্যক্তিকে জেতাতে নিজেদের প্রার্থীকে গুম করা হয়েছে। এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না, তা উপনির্বাচনে আবারো প্রমাণিত। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন চলবে। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘এবার ইউনিয়ন থেকে আন্দোলন শুরু হবে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা শুরু হবে।’
তিনি বলেন, আজকে সরকার টিকে আছে চাপার জোরে। গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। তারা একদিকে ঋণ করছে আরেকদিকে জনগণের পকেট কাটছে। আজকে তারা জনগণের দিকে তাকায় না। দেশ এখন লুটেরাদের কবলে পড়েছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই গণতন্ত্র হত্যা করেছে। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সব গণমাধ্যম বন্ধ করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আজও আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে জেলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদেরকে দমাতে পারবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে হাজার হাজার ভুলে ভরা পাঠ্যপুস্তক তৈরি করেছে। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের কৃষ্টি কালচার নষ্ট করছে। সরকার সংসদ থেকে শুরু করে সবকিছু ধ্বংস করে একটি ব্যর্থ জাতি তৈরি করতে চায়। তারা প্রতিনিয়ত জনগণের ঘৃণা কুড়াচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো সময় আছে খালেদা জিয়া, রুহুল কবির রিজভী, খন্দকার আবু আশফাকসহ সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দিন। নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমেই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটানো হবে। এরপরে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা ধীরে ধীরে চলছি। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছি।
