মুটিয়ে গেছেন, গ্ল্যামার কমে গেছে এসব কথা যখন নিত্য শুনতে হয়েছে তখনই হঠাৎ নিজের ওজন কমিয়ে আমূল বদলে গেলেন অভিনেত্রী রুনা খান। চমকে দিয়েছেন সবাইকে। নিজে হয়েছেন আত্মবিশ্বাসী। নিজের ওজন কমানোর প্রচেষ্টা নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
রুনা খান বলেন, ‘দীর্ঘ এই জার্নির কথা যখনই কাউকে বলতে যাই, তখনই চোখের মাঝে ভেসে আসে আমার স্বামী ও মেয়ের ছবি। এ পথে তাদের অবদান কোনো অংশে কম নয়। ধানমন্ডির ওই লেকে তারা দুজনই দিনের পর দিন আমার হাত ধরে হেঁটেছে। ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা জুগিয়েছে। ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের শুরু প্রায় ১০ বছর আগে। এতদিন পারিনি। এবার পেরেছি।’
এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার বিয়ে হয় ২০০৯ সালে। পরের বছরই আমাদের একমাত্র কন্যার জন্ম হয়। এর পর থেকেই ধীরে ধীরে আমার ওজন বাড়তে থাকে। যেটি এক পর্যায়ে একশর ঘরে চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে আমি চিন্তিত হয়ে পড়ি। শুধু যে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা তা কিন্তু নয়। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্যও বিষয়টি খুব সিরিয়াস হয়ে গেল। শুরু হয় ওজন কমানোর চেষ্টা। কিন্তু শরীরটাকে ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না। তাই প্রতি বছরের শুরুতে নিয়ম মেনে কিছুটা ওজন কমলেও, আবার আগের মতো হয়ে যেত। বলতে গেলে আমি একশর ঘর থেকে কিছুতেই বের হতে পারছিলাম না।’
এর পরও ওজন কমাতে অনেকবারই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন রুনা। খাবারের তালিকায় আনেন বিরাট পরিবর্তন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। একপর্যায়ে রুনা একেবারেই থামিয়ে দেন তার চেষ্টা। তখনই অনুপ্রেরণা হিসেবে রবার্ট ব্রুসের গল্পের সেই মাকড়সার মতো তাকে উদ্দীপ্ত করে মেয়ে রাজেশ্বরী ও স্বামী এষণ ওয়াহিদ। ফের শুরু করেন চেষ্টা। রুনা নামলেন মিশন নিয়ে। শুরু করলেন হাঁটা। তার সঙ্গে হাঁটেন মেয়ে। তাদের সঙ্গ দেন স্বামীও।
রুনা বলেন, ‘আমি যতটুকু হেঁটেছি, তারাও আমার সঙ্গে হেঁটেছে। সকাল-সন্ধ্যা তারা আমার সঙ্গে ধানমন্ডির লেকের রাস্তায় ঘাম ঝরিয়েছে। ধানমন্ডি ৩২ থেকে সুধাসদনের সেই পথটুকু জানে আমার এই যুদ্ধের পেছনের গল্প কতটা ত্যাগের ও কষ্টের।’
‘মেয়ে ও স্বামী আমার জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আমার কাছে তাদের স্থান সবার থেকে আলাদা। এ পরিবর্তন জীবনেও হতো না, যদি তারা না থাকত। তারা জানত যে, তারা আমাকে উৎসাহ না দিলে আমি আবারও হয়তো ব্যর্থ হয়ে যাব। আমিও দেখিয়ে দিলাম, ভালোবাসা ও উৎসাহ পেলে অনেক কিছুই করা যায়। নিজের ওজন ১০৫ কেজি থেকে কমিয়ে ৬৬ কেজিতে আনতে পেরেছি। প্রায় ৩৯ কেজি ওজন কমেছে। নিজেকে অনেক সুস্থ ও ফিট হিসেবে পেয়েছি আমি। পাচ্ছি অনেক প্রশংসাও।’ যোগ করেন রুনা।
নিজের এই পরিবর্তনের কারণে দেশ-বিদেশের অনেক পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন রুনা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে কখনও ভাবিনি ওজন কমানোর বিষয়টি সবার নজর কাড়বে। বাংলাদেশসহ ভারতের বেশ কিছু জনপ্রিয় পত্রিকার শিরোনাম হয়েছি এবং তারা আমার ডায়েট সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। তারা একে আমার অর্জন হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে আমি আসলেই কিছু একটা করে দেখিয়েছি। বিষয়টি আমার কাছে ভালো লেগেছে।’
