পর্দায় কখনও তিনি লাজুক লাস্যময়ী প্রেমিকা, কখনও গ্রামের বধূ, কখনও স্নেহময়ী ভাবি, কখনও মমতাময়ী মা। বাঙালি নারীর শাশ্বত রূপ দর্শক তার মধ্যেই দেখেছেন রুপালি পর্দায়। চার দশকের অভিনয় জীবনে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি। পর্দায় তিনি হাসলে দর্শকের হৃদয়ে ভালোলাগার অনুরণন ছড়িয়ে পড়ত, কাঁদলে দর্শক কাঁদত- এমন দৃশ্য এ দেশের পেক্ষাগৃহে অনেকবারই দেখা গেছে।
গ্ল্যামার, বিউটি অ্যান্ড পার্সোনালিটি- এই তিনের সমন্বয় বাংলা সিনেমার দর্শক শাবানার পরে আর দেখেনি। যে কারণে প্রশংসা যেমন পেয়েছেন, পেয়েছেন কাজের স্বীকৃতি। রেকর্ডসংখ্যক ১০ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সে কথারই সাক্ষ্য দেয়।
শাবানা এ দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে আছেন গভীর ভালোবাসায়। রাষ্ট্র তাকে দিয়েছেন সম্মান। ১৯৯৭ সালে হঠাৎ চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নেন এই কিংবদন্তি। ২০০০ সাল থেকে তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বাস করছেন। দর্শকের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঝে মাঝে দেশে আসেন এই অভিনেত্রী। তবে তাকে কখনও এফডিসি বা এফডিসির কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায় না। এমনকি চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়েও তাকে কখনও মন্তব্য করতে দেখা যায় না। বলা চলে চলচ্চিত্র থেকে যোজন যোজন দূরে তিনি।
দুই বছর আগে দেশের সংবাদ মাধ্যমসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা হয়েছে তাকে নিয়ে। সেসময় পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দেশে এলেও, দৌড়ঝাঁপ করেন সংসদ নির্বাচনে নমিনেশনের আশায়। যদিও সেবার তার স্বামী ওয়াহিদ সাদিকের নমিনেশন মেলেনি।
দেশে জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া বইছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাপ করছেন দলীয় মনোনয়নের আশায়। ঠিক সেই মুহূর্তে সিনেমা প্রযোজনার ঘোষণা দেন এই অভিনেত্রী এবং তার স্বামী প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিক।
ভারতের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সিনেমা নির্মাণ করবেন তারা। এই সিনেমায় নায়ক থাকবেন বাংলাদেশের শাকিব খান এবং নায়িকা হতে পারেন বলিউড অভিনেত্রী কাজল অথবা বিদ্যা বালান। এমনটাই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ওয়াহিদ সাদিক। এমন ঘোষণায় আবারো আলোচনায় তারা। আবারো সিনেমা প্রযোজনা করে অতীতের মতো চলচ্চিত্র শিল্পে নিজেদের অবদান রাখবেন এই দম্পতি এমনটাই প্রত্যাশা চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের।
শাবানা ও ওয়াহিদ সাদিক তাদের চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা এস এস প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৭৯ সালে। ওই বছর প্রথম সিনেমা নির্মাণ করেন ‘মাটির ঘর’। এটি পরিচালনা করেন প্রয়াত আজিজুর রহমান। এর পর ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘আমি সেই মেয়ে’, ‘স্বামী কেন আসামী’সহ স্থানীয় ও যৌথ প্রযোজনায় প্রায় দুই ডজন সিনেমা নির্মাণ করেন তারা। যার বেশিরভাগই ব্যবসা সফল।
