চার বছরের ব্যবধানে ‘কোটিপতি’ হিরো আলম

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউটিউবার আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলম চার বছরের ব্যবধানে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন।

আগে সম্পদ বলতে তেমন কিছু না থাকলেও এখন তিনি কোটিপতি। তার রয়েছে প্রাইভেট কার, ব্যাংকে ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। রয়েছে কৃষিজমি। স্ত্রীর নামে আছে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার।

অথচ চার বছর আগে ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনের হলফনামায় হিরো আলমের সম্পত্তি বলতে তেমন কিছুই ছিল না।

বিএনপি দলীয় এমপিদের পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া বগুড়া ৪ ও ৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছায় হিরো আলম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিল থাকায় গত ৮ জানুয়ারি তার মনোনয়ন বাতিল করেন করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।

জমা দেয়া হলফনামায় হিরো আলম জানিয়েছেন, তিনি স্বশিক্ষিত। আর তার পেশা ব্যবসা। তার নিজ নামে কৃষি জমি থেকে আয় দেখানো হয় ৬ হাজার টাকা। ব্যবসার আয় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। আসবাবপত্র এক লাখ ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য এক লাখ টাকার।

এবারের হলফনামায় কৃষিজমি দেখানো হয়েছে দেড় বিঘা (৫০ শতাংশ) এবং বসতবাড়ি ৯ শতাংশ। স্ত্রী-পরিবারের নামে ৫৫ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উল্লেখ করেন তিনি।

যদিও ২০১৮ সালে তার পারিবারিক কোনো সঞ্চয়পত্র ছিল না। আর ২০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল।

২০১৮ সালে হিরো আলমের ছিল ৮৭ হাজার টাকা দামের মোটরসাইকেল। এবার তিনি ১৬ লাখ টাকা দামের একটি প্রাইভেটকার ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি তিনি এটি কিনেছেন।

২০২৩ এর বগুড়া দুই আসনের উপনির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় জমি বাদ দিয়ে নগদ অর্থ ও স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। কৃষি ও ভিটা জমির মূল্য ধরলে এই আর্থিক পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

২০১৮ সালের নির্বাচনে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছিলেন হিরো আলম। এর মধ্যে নিজের অভিনয় ও ব্যবসা থেকে ৫ লাখ এবং শ্বশুর, ফুফা ও ভগ্নিপতির কাছ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা ধার করে নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর কথা বলেছিলেন।

কিন্তু এবার নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস সম্পর্কে কিছু জানাননি হিরো আলম। হলফনামার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ভুল করে হয়েছে। আমার এত সম্পত্তি নেই। হলফনামা লেখার জন্য যে উকিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তিনিই এই ভুল করেছেন। ওই উকিল আমার হলফনামায় অন্য কারো তথ্য দিয়েছেন।’

কিন্তু হলফনামা লেখার দায়িত্ব পাওয়া সেই উকিলের নাম বলতে পারেননি হিরো আলম। এমনকি হলফনামা জমা দেয়ার আগেও এসব খেয়াল করেননি তিনি।

হিরো আলমের দাবি, হলফনামায় উল্লেখ করা এত সম্পত্তি নেই তার। তবে কিছুদিন আগে ১৬ লাখ টাকা দামের একটি প্রাইভেট কার কিনেছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়া সদরের এরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা হিরো আলম শৈশবে চানাচুর বিক্রি করতেন। পরে তিনি সিডি বিক্রি এবং ডিশ সংযোগের ব্যবসা করেন। নিজেই মিউজিক ভিডিও তৈরি করে ডিশ লাইনে সম্প্রচার শুরু করেন।

ইউটিউবে প্রায় ৫০০ মিউজিক ভিডিও ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন হিরো আলম। ভিডিওগুলোর মূল চরিত্রে সবসময় নিজেই অভিনয় করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *