পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল সর্বোচ্চ ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা

কিশোরগঞ্জ: ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার মিলেছে ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা। এটা দানবাক্স থেকে একসঙ্গে পাওয়া সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা।

এর আগে গত বছরের ১ অক্টোবর দানবাক্স থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৮৯ লাখ ২৮ হাজার ৪১৫ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এবার তিন মাস না যেতেই অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। কিশোরগঞ্জের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক এই পাগলা মসজিদ অবস্থিত।

তিন মাস ছয় দিন পর শনিবার (৭ জানুয়ারী) সকালে দানবাক্স খুলে ২০ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। গড়ে প্রতিদিন ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা দানবাক্সে জমা হয়। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনা-রুপাও পাওয়া যায়। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক এটিএম ফরহাদ চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সকাল ৯টায় টাকাগুলো মসজিদের দ্বিতীয় তলায় মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। এতে অংশ নেন ১১২ জন মাদ্রাসাছাত্র, ব্যাংকের ৫০ জন স্টাফ ও মসজিদ কমিটির ৩৪ জন।

মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘মসজিদে দানবাক্স রয়েছে আটটি। সেখানে প্রতিনিয়ত মানুষ সহায়তা দেন। করোনা সংক্রমণের শুরুতে মসজিদে মুসল্লিদের চলাচল এবং নারীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকলেও দান অব্যাহত ছিল।’

পাগলা মসজিদের নৈশপ্রহরী মকবুল হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ ২৭ বছর। তিনি বলেন, ‘শুধু মুসলিম না, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে এসে দান করে। টাকাপয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন।’

টাকা গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহাকরী কমিশনার অহনা জিন্নাত, শেখ জাবের আহমেদ, সুলতানা রাজিয়া, সহকারী কমিশনার মোছা. নাবিলা ফেরদৌস, মো. মাহমুদুল হাসান, রওশন কবীর, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *