চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। নতুন বছরে তার অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। অভিনয় ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রবিউল ইসলাম।
সিনেমায় আপনার উপস্থিতি কম। এর কারণ কী?
আমার বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়। প্রত্যেক বছর একটা পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু করোনার পর সব পাল্টে গেছে। গত বছরে শুধু ‘বিউটি সার্কাস’ মুক্তি পেল। সেখানে দর্শক আমাকে অতিথি চরিত্রে দেখেছে। কিন্তু দর্শক যেখানে আমাকে খুঁজে পাবে সে ছবিগুলো মুক্তি পায়নি। যেমন- ‘দামপাড়া’, ‘১৯৭১ সেইসব দিন’, ‘রাসেলের জন্য অপেক্ষা’, ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’, ‘সুজন মাঝি’ এমন বেশ কিছু সিনেমার কাজ শেষ করেছি। এ ছাড়াও আমার প্রোডাকশন থেকে দুটি সিনেমার কাজ গুছিয়ে এনেছি।
সিনেমার জৌলুস হারিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?
সিনেমার জৌলুস হারিয়ে গেছে, এটা আমি বিশ্বাস করি না। সিনেমার আবেদন ছিল, আছে এবং থাকবে। ভালো সিনেমা দরকার। দর্শকদের নতুন কিছু দেখাতে হবে, সমসাময়িক বিষয়গুলো দেখাতে হবে। গত বছর কিন্তু বেশ কিছু সিনেমা ভালো চলেছে। যতই ওটিটি বা মোবাইলে সিনেমা দেখা যাক না কেন? একটা ভালো সিনেমা সবাই হলে গিয়ে দেখতে চায়। অনেক হলে বসার সিট, সাউন্ড ভালো নেই, অনেক সমস্যা। এই সমস্যাগুলোর জন্য দর্শক হলে যায় না। অন্যদিকে সিনেপ্লেক্সে কিন্তু দর্শক যাচ্ছে। প্রত্যেকটা জেলায় যদি একটা সিনেপ্লেক্স হয়, তাহলে সিনেমায় আগের জৌলুস ফিরে আসবে।
ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সিনেমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলেছে কি?
সিনেমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। আসলে একই পথের সঙ্গে অন্য পথ আসে। বাঁকে বাঁকে পথের শাখা-প্রশাখা বের হচ্ছে। এতে কিন্তু মূল পথ বন্ধ হয়ে যাবে না। ওটিটি আসাতে কাজের গতি বেড়ে গেছে। যে শিল্পীরা বসেছিল সেও কাজ করছে। এতে সে অভিনয় চর্চার মধ্যে থাকছে। একজন নির্মাতা ভালো একটা সাবজেক্ট নিয়ে কাজ করতে পারছে। সবকিছু মিলিয়ে এটা খুব পজিটিভ।
ইদানীং তারকারা ব্যক্তিজীবন নিয়ে সমালোচনায় পড়ছেন। বিষয়গুলো কীভাবে দেখছেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সবাই সময় কাটায়। কিছু শিল্পীর দোষ আছে। তারা সারা দিন কী করছে না করছে সবাইকে জানাতে চায়। এ জন্য এর বিরূপ প্রভাব পরে। আমি বরাবরই বিশ্বাস করি ব্যক্তিগতজীবন ব্যক্তিগতই রাখা উচিত। আমার পারিবারিক ব্যক্তিগতজীবন মানুষকে দেখানোর দরকার কি! যারা রুপালি জগতের নায়ক-নায়িকা তাদের জীবন নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল থাকবে। এখন হাঁড়ির খবর যদি আমি জানিয়ে দেই, তাহলে তো আমার প্রতি মানুষের আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে। এই বোধ আমাদের কিছু শিল্পীর আসা দরকার। এই দুই-চারজন শিল্পীর জন্য আমাদের ওপর সামগ্রিকভাবে একটা নেতিবাচক প্রভাব পরে। তাদের জন্য ইন্ডাস্ট্রির মুখে কালি পড়ছে। এটা বোঝা উচিত। এটা না বুঝতে পারলে তাকে আমি শিল্পীই বলব না। আমার কোনো অধিকার নেই, আমার জন্য সবার গায়ে কলঙ্কের দাগ লাগুক।
