ঢাকাই সিনেমার পোস্টার বয়। কেউ বলেন নম্বর ওয়ান নায়ক। কেউ বলেন ঢালিউডের কিং খান। ভক্তের চোখে তিনি সবার সেরা৷ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সাফল্যের সঙ্গে এদেশের সিনেমায় রাজত্ব করে যাচ্ছিলেন।
তবে আজকাল রব উঠেছে, ডি-টাউনের আর শাকিব খানের নির্ভরের সময় নেই। উল্টো তার ক্যারিয়ার কতটা কোমর সোজা করে দাঁড়াতে সক্ষম— প্রমাণ করতে তাকেই বসতে হবে পরীক্ষায়।
এর কারণ হচ্ছে, প্রায় নয় মাস মার্কিন মুলুকে ছিলেন শাকিব। এই সময় একটি মাত্র ছবি ‘গলুই’ মুক্তি পেয়েছে তার। সেও বেশ কয়েকমাস আগের কথা। অনেকের ধারণা দীর্ঘ সময় নতুন কোনো ছবি মুক্তি না পাওয়ায় শাকিব নিজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন দর্শক থেকে।
একই ধারণা পোষণ করছেন প্রখ্যাত নির্মাতা কাজী হায়াৎ। তিনি কিছুটা রাখঢাক রেখে বলেন, ‘এই মুহূর্তে শাকিবের উচিত নতুন সিনেমা নিয়ে আসা। কারণ লম্বা একটা সময় পর্দায় সে অনুপস্থিত। এই অনুপস্থিতি তাকে দর্শকের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এর সমাধান হিসেবে তার ফের সিনেমায় নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন।’
বর্ষীয়ান পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন শাকিব। ফলে দেশের সিনেমায় তার একটি অনুপস্থিতি দেখা গেছে। এখন শাকিবের দিন শেষ কি না, এটা নির্ভর করবে তার পরবর্তী সিনেমার ওপর। তার নতুন সিনেমা নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়াই বলে দেবে তার ভবিষ্যৎ।’
এদিকে দেশে ফিরে ফলাও করে সুখবর দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শাকিব। কিন্তু নতুন ছবির কাজে নামেননি। আটকে আছেন অসমাপ্ত ছবিগুলো নিয়ে। তার অবহেলায় মেধাবী নির্মাতা হাসিবুর রেজা কল্লোলের ‘কবি’ সিনেমাটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এতে অসন্তুষ্ট খোদ শাকিবিয়ানরা।
তাদের মতে অসমাপ্ত এ ছবিগুলো সময়ের চেয়ে পিছিয়ে ও বস্তাপচা। এই ব্যস্ততায় ‘কবি’কে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছেন তাদের প্রিয় তারকা।
এই মুহূর্তে শাকিব অনুরাগীরা তাকিয়ে আছেন নতুন বছরের দিকে। আগামী বছর কিং খানকে প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে তরুণ নির্মাতাদের নতুন নতুন ছবিতে। চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে ওই ছবিগুলো সফলতার ওপরই নির্ভর করবে বাংলা সিনেমায় তার টিকে থাকা।
