বিএনপির জুলুম-অত্যাচারের সঙ্গে একাত্তরের কোনো তফাৎ দেখি না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যুব মহিলা লীগ করার পর থেকে আমি দেখেছি যে সাহসী ভূমিকা আমাদের যুব মহিলা লীগ নিয়েছে, রাস্তায় নেমেছে। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে…তারা তো আসলে নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বাসই করতো না। আমরা প্রথমবার নারী উন্নয়ন নীতিমালা করলাম। ২০০১-এ বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেটা প্রথমে স্থগিত করে দিলো এবং এমন কতগুলো পরিবর্তন নিয়ে এলো যে, নারীদের কোনো ক্ষমতাই থাকে না।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্যাতন ২০০১ এর নির্বাচনের পর থেকে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর কারো চোখ তুলে নিয়েছে, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে হাড় গুঁড়া গুঁড়া করে দিয়েছে, জেলে নিয়ে গেছে, একেকটা নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শত শত মামলা দিয়েছে। হয়রানির চরম অবস্থা। সারা বাংলাদেশে ঠিক পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে এ দেশে নারীদের ওপর অত্যাচার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, অগ্নি সংযোগ করেছে, বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে যখন ক্ষমতায় এলো মনে হলো যেন সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সেই অত্যাচার-গণহত্যা এরই যেন পুনরাবৃত্তি।
সারা দেশে নারী ধর্ষণ-নির্যাতন ৬ বছরের ছোট্ট শিশু রাজুফা থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধারাও তাদের কাছ থেকে রেহাই পায়নি। কত মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। নির্যাতনের ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। আমি যতদূর পেরেছি তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। মেয়েদের ওপর তাদের জুলুম-অত্যাচার ওই সময়ের ঘটনাগুলো যদি তুলনা করা হয় একাত্তরের ঘটনার সঙ্গে আমি কোনো তফাৎ দেখি না। কীভাবে তারা অত্যাচার করেছে, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু খুনিরা তাকে সপরিবারে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থমকে গিয়েছিল। দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা হয়েছিল। ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ ছিল। অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে বাংলাদেশের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।’
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করি।
এর আগে বেলা সোয়া ১২টার দিকে সম্মেলনস্থলে আসেন প্রধানমন্ত্রী। পর জাতীয় সঙ্গিত পরিবেশিত হয়। এরপর জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা উড়িয়ে ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. দীপু মনি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুর সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
