তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে কাতারে পা রেখেছিল টানা ৩৬ ম্যাচে জয় পাওয়া দলটি। বিশ্বকাপ মিশনের শুরুতেই সৌদি আরবের বিপক্ষে হেরে হোঁচট খায় আর্জেন্টিনা। সেই পরাজয়ের পর নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে টানা চারটি ম্যাচ জয়ে সেমিফাইনালে উঠে দুবারের চ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে গতবারের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছে আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল মেসি ও ইউলিয়ান আলভারেজের জাদুতে ক্রোয়াটদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল।
এ জয়ে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের পর আবারও ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আর ২০১৮ সালের ফাইনাল খেলার পর এবারে শেষ চার থেকেই বিদায় নিতে হল ক্রোয়েশিয়াকে।
লুসাইল স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডকে সামলানোর লক্ষ্যে ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলতে নামে আর্জেন্টিনা। শুরুতে মডরিচ-কোভাচিচরা বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও ১৫ মিনিট যাওয়ার পর নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায় আর্জেন্টিনা।
মেসি-রদ্রিগো দে পলরা বলের দখল নিয়ে আক্রমণ চালাতে থাকেন ও ক্রোয়েশিয়াকে পজেশনের জন্য প্রেস করেন। এর ফলটা পায় আর্জেন্টিনা ৩৩ মিনিটে। আক্রমণে উঠে আসা হুলিয়ান আলভারেসকে নিজেদের বক্সে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ।
রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে স্পট থেকে ভুল করেননি মেসি। স্কোর করেন এবারের আসরে তার পঞ্চম ও সব মিলিয়ে ১১তম বিশ্বকাপ গোল। এতে করে আর্জেন্টিনার পক্ষে আগের সর্বোচ্চ গোলদাতা গাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে ছাড়িয়ে যান তিনি। বাতিস্তুতার গোল ছিল ১০টি।
এর পাঁচ মিনিট পর সেন্টার লাইন বরাবর আলভারেসকে খুঁজে নেয় মেসির পাস। আলভারেস এক ছুটে ঢুকে পড়েন ক্রোয়েশিয়ার বক্সে। বল দুইবার দুইজন ডিফেন্ডারের গায়ে প্রতিহত হয়ে তার পায়ে ফিরে আসলে ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং টাচ দেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।
২ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ক্রোয়েশিয়াকে চেপে ধরে আর্জেন্টিনা। ৪২ মিনিটে কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টারের হেড গোললাইন থেকে ফেরান লিভাকোভিচ। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার বাড়াতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। বলের দখল তাদের থাকলেও ডি-বক্সে একজন পরিপূর্ণ নাম্বার নাইনের অভাবে ভুগেছে পুরো দল।
দ্বিতীয়ার্ধের মিনিট বিশেক প্রাধান্য নেয়ার চেষ্টা করে ক্রোয়েশিয়া। উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। প্রথমার্ধের মতো এ অর্ধেও আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।
তবে, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ ২০ মিনিটে গোল হজম করা আর্জেন্টিনার ডিফেন্স নিয়ে তখনও কিছুটা আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল ক্রোয়েশিয়া।
৬৯ মিনিটে আসে ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়া তৃতীয় গোল। মেসি ক্রোয়েশিয়ার বক্সের ডান পাশে বল পেয়ে ডিফেন্ডার ইয়াস্কো গিভারডিওলকে কাটিয়ে বক্সে পাস বাড়ান আলভারেসের উদ্দেশে।
গোলকিপারকে নিঁখুত প্লেসিং শটে পরাস্ত করে ম্যাচভাগ্য নিশ্চিত করে দেন আলভারেস।
বাকি সময়ে আর্জেন্টিনা বদলি হিসেবে নামা লিসান্দ্রো মার্তিনেসসহ ৫ জন ডিফেন্ডারকে নিয়ে আটকে রাখে ক্রোয়েশিয়াকে। ফলে, স্কোরলাইনে আর পরিবর্তন আসেনি। ৩-০ গোলের জয় নিয়েই কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
আগামী ১৮ ডিসেম্বর শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে মেসিদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স অথবা মরক্কো।
